প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২১ এএম আপডেট: ৩০.০৪.২০২৬ ১:৩৪ এএম |
তীব্র
গরম কিংবা কনকনে শীত-ঋতু বদলালেও ভাগ্য বদলায় না কুমিল্লার ফুটপাতে থাকা
মানুষগুলোর। কুমিল্লা টাউন হলের মূল গেট, ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠের কোণ এবং
কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের মিম্বারের নিচে এখন বহু মানুষের স্থায়ী ঠিকানা।
শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়, তখন এই মানুষগুলো শুরু করেন বেঁচে থাকার অন্য এক
সংগ্রাম।
কারো বাবা নেই, কারো পরিবার থেকেও নেই। এদের সবার পরিচয় এখন
একটাই-তারা 'পথশিশু' বা 'গৃহহীন'। কুমিল্লার ব্যস্ততম এই এলাকাগুলোতে ঘুরে
দেখা যায় পাঁচটি ভিন্ন জীবনের
৯ বছরে বয়সের রাব্বি টাউন হল গেটের
তোরণের নিচে প্লাস্টিক বিছিয়ে ঘুমায় রাব্বি। তার বাবা নেই, মা অন্য শহরে
কাজ করেন। সারা দিন কাগজ কুড়িয়ে যা পায়, তা দিয়ে কোনোমতে একবেলা খেয়ে জীবন
যুদ্ধে টিকে থাকার চেষ্টা করছে এই শিশুটি।জয়নাল আবেদিন এক সময় সব ছিল,
কিন্তু বার্ধক্যের ভারে আজ তিনি একা। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের মিম্বারের এক
কোণায় রাত কাটান তিনি। তার মতে, ঘর নেই বলে যে সম্মান নেই, তা নয়; আমরা
শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।
মরিয়ম বেগম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ
ময়দানের ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে টাউন হল গেটের সামনে রাত কাটে তার। স্বামী
পরিত্যক্তা এই নারী মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চেয়ে সন্তানদের মুখে
খাবার তুলে দেন। তার জন্য প্রতিটি রাত মানেই নিরাপত্তাহীনতার এক নতুন
যুদ্ধ।সুমন বয়ন ১৪ শহরে বিভিন্ন জায়গায় পানির বোতল কুড়িঁয়ে ভাঙ্গারি কাছে
বিক্রিয় করে তার জীবন চলে। যেখানে রাত হয়, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। পরিবার
থেকে বিচ্ছিন্ন সুমনের স্বপ্ন ছিল স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু পেটের দায় তাকে আজ
রাস্তার বাসিন্দা করে তুলেছে। কালা মিয়া ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন ফুটপাতে শুয়ে
থাকেন। শরীর ভালো না থাকলেও দেখার কেউ নেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই
মানুষটির কাছে জীবনের শেষ সম্বল এখন কুমিল্লার এই খোলা আকাশ।

শহরের
চাকচিক্যের আড়ালে এই মানুষগুলোর হাহাকার দিন দিন বাড়ছে। কুমিল্লা টাউন
হলের সামনের এই দৃশ্যগুলো মনে করিয়ে দেয় যে, উন্নয়ন ও আধুনিকতার ভিড়ে এখনো
একদল মানুষ নিদারুণ অভাব আর অবহেলায় দিন কাটাচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,
সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এসব গৃহহীন মানুষের জন্য অন্তত রাতের বেলা
থাকার মতো কোনো শেল্টার হোমের ব্যবস্থা করা গেলে এই ‘জীবন যুদ্ধ’ কিছুটা
হলেও সহজ হতো।যেখানে রাত হয় সেখানেই ঘুমিয়ে পড়া এই মানুষগুলো আজ কোনো করুণা
নয়, বরং বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারটুকু ফিরে পেতে চায়।