
‘বন্ধু
বলে কথা!’ এই প্রবাদটি বাস্তবে প্রমাণ করলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার
বাঙ্গরা বাজার থানার ৯ তরুণ। জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে
গিয়ে নিজেদের চুল বিসর্জন দিয়ে তৈরি করলেন বন্ধুত্বের এক নতুন ইতিহাস। এমন
অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটেছে পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের খৈয়াখালী বাজারে।
জানা
যায়, দৌলতপুর গ্রামের সজীব নামের এক তরুণ বেশ কিছুদিন ধরে মাথার ত্বকের
জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে
সম্পূর্ণ মাথা ন্যাড়া করতে হয়। অসুস্থতার কারণে সজীব যখন মানসিকভাবে ভেঙে
পড়েছিলেন, তখন তার বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেন সজীব যেন নিজেকে একা বা হীনম্মন্য
মনে না করে।
গত বুধবার বিকেলে সজীবকে সঙ্গ দিতে ৯ বন্ধু কাইয়ুম মিয়া,
আলম মিয়া, শরিফ মিয়া, আবদুল মোমেন, নাজিম উদ্দিন, শাহজালাল মিয়া,
মাইনুদ্দিন মিয়া, সাদ্দাম হোসেন ও সাগর মিয়া স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়ে
নিজেদের সব চুল ফেলে ন্যাড়া হয়ে যান। তাদের এই ভালোবাসায় সজীব এক মুহূর্তের
জন্যও নিজেকে একা মনে করেননি।
বন্ধুদের এমন ত্যাগের বিষয়ে তারা বলেন,
‘সজীব যাতে কষ্ট না পায় এবং সে যেন বুঝতে পারে আমরা সব সময় তার পাশে আছি,
সেই বার্তা দিতেই আমরা সবাই ন্যাড়া হয়েছি।’
বন্ধুদের এই ভালোবাসায়
অভিভূত সজীবও তাদের সম্মান জানাতে আয়োজন করেন এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের।
বৃহস্পতিবার খৈয়াখালী বাজারে বন্ধুদের সম্মানে এক পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন
করা হয়। লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার। প্রথম পুরস্কার
একটি খাসি, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি রাজহাঁস, তৃতীয় পুরস্কার একটি দেশি
মোরগ, অন্যান্য বন্ধুরা পেয়েছেন বিশেষ উপহার হিসেবে একটি করে হাতঘড়ি।
এই
হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের
মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে
বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এমন নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব খুব কমই দেখা যায়। আজকের
প্রজন্মের কাছে এটি সত্যিই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’
বন্ধুত্বের এই মহৎ উদ্যোগটি কেবল ওই ৯ তরুণকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে মানবিকতার এক নতুন পাঠ শেখালো।
