কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে
শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মাছের মেলা। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে
নিতে এ অঞ্চলে ইলিশের চেয়েও বড় মাছের কদর অনেক বেশি, যার প্রতিফলন দেখা
গেছে এবারের মেলায়। ভোর হওয়ার আগেই গোমতী নদীর তীরবর্তী এই বাজারে
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাছচাষি, পাইকারি বিক্রেতা এবং শৌখিন ক্রেতাদের
পদচারণায় পুরো এলাকা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে বিশাল আকৃতির রুই,
কাতলা, মৃগেল, চিতল ও আইড় মাছের বাহারি সমারোহ মেলায় আসা মানুষের নজর
কেড়েছে। এছাড়া পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, কালবাউশসহ নানা প্রজাতির দেশি ও
বিদেশি মাছের পাশাপাশি বাজারে ছিল টাটকা চিংড়ি, টেংরা, পাবদা ও শোল মাছের
উপচে পড়া সরবরাহ।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মাছের আকার ও ওজন ভেদে প্রতি
কেজির দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্যবসায়ীদের
দাবি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং মাছের খাবারের দাম বাড়ার কারণে মাছের বাজার
কিছুটা চড়া হলেও ক্রেতাদের উৎসাহে কোনো কমতি নেই। উৎসবের দিনে পরিবার ও
আত্মীয়-স্বজনের জন্য বড় মাছ কেনাকে স্থানীয়রা আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক
হিসেবে মনে করেন। বিশেষ করে মেলা থেকে মাছ কিনে জামাই-আদুরে কিংবা মেহমান
আপ্যায়নের যে রেওয়াজ এই জনপদে রয়েছে, তার টানেই হাজারো মানুষ এই বাজারে ভিড়
জমিয়েছেন। অনেকেই চড়া দামের তোয়াক্কা না করে কয়েক কেজি ওজনের বড় মাছ নিয়ে
বিজয়ীর বেশে বাড়ি ফিরছেন।
এই মেলার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে প্রবীণ ও
বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানায়, মুরাদনগরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে রামচন্দ্রপুরের এই
মাছের মেলা এক অনন্য অধ্যায়। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আয়োজনটি এখন
কেবল কেনাবেচার বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে
সর্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখ এলেই স্থানীয় বাসিন্দারা অধীর
আগ্রহে এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো রামচন্দ্রপুর
বাজারে ফিরে এসেছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়
ধরনের গতির সঞ্চার করেছে। ঐতিহ্যের এই ধারা বজায় রেখে আগামীতেও এভাবেই যেন
আনন্দের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করা যায়, এমনটিই প্রত্যাশা মেলায় আসা হাজারো
মানুষের।
