
শুক্রবার
রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম
ফ্লাইটে হজ যাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস
সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে
হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হাজীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং
শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
‘‘পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট, অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে উঠেন এবং হাজীদের সঙ্গে কথা বলেন।”
এ
সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জ্বল হোসেন
কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী
রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ,
ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা
আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল
মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী রাতে ১০টা ৫০
মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান, সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
করেন। পরে সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
হাজী ক্যাম্পে কুশল বিনিময়কালে বলেন, “আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির
১৮ তারিখ, এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে।
সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি
যতটুকু করা যায়, এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি, ১২ হাজার টাকার মত খরচ
কমিয়েছি।
“আশা করি আগামীবার যারা যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারবো।
আমরা চেষ্টা করছি আর ভালো করার জন্য, যেন হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।
আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন দোয়া করবেন দেশের জন্য।”
রাত ১২টা ২০
মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
ধর্ম
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা
করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের
চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট রয়েছে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ
থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫
জন এবং বেসরকারি মাধ্যম ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাবেন।
সৌদি
আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদি আরবের সৌদিয়া ৩৫ শতাংশ আর
ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে হজ হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা শেষ হবে ১ জুলাই।
‘রোড টু মক্কা’ উদ্বোধন
হজযাত্রীদের জন্য শুক্রবার রাত ৯ টায় ‘রোড টু মক্কা’ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
এসময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হজ যাত্রীদের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দোয়া চান।
‘রোড
টু মক্কা’ বা মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ হলো সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ
মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে হজযাত্রীদের নিজ দেশ থেকেই
ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট যাচাই এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
