নিজস্ব
প্রতিবেদক।। সংসদ সদস্য (এমপি) না হয়েও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। বৃহস্পতিবার (১২
মার্চ) শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি অংশ নেন এবং
অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। একইসঙ্গে তার সঙ্গে
আরও দুইজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও তাদের এই উপস্থিতি সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি
স্বীকৃত সাংবিধানিক ব্যবস্থার অংশ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে সংসদের বাইরে থেকে বিশেষ যোগ্যতা ও
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ
ব্যবস্থাকে সাধারণত টেকনোক্র্যাট কোটা বলা হয়। এর মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচিত
জনপ্রতিনিধি না হয়েও সরকার দলের রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর
দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদি তিনি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা, পেশাগত
অভিজ্ঞতা কিংবা প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
বিবেচিত হন। রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষজ্ঞদের
সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ বিধান রাখা হয়েছে। তবে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা
সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিতে, সরকারি কার্যক্রম ব্যাখ্যা
করতে এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করতে পারলেও তারা
সংসদের কোনো সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারেন না।
এদিকে বৃহস্পতিবার সংসদ
অধিবেশনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতো
গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আমিনুর রশিদ ইয়াছিন সংসদের
কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নিতে এবং
সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। একই
সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং যুব ও
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
