প্রতিজ্ঞা,
অঙ্গিকার ও ওয়াদা সমার্থবোধক শব্দ। এটা পালন করা একটি ঈমানী বিষয়। এ
ব্যাপারে কোন প্রকার অবহেলা করা ঈমানের সাথে অবহেলা করার শামিল। কিন্তু
আমরা এ বিষয়টিকে সাধারণ ও সামান্য বিষয় মনে করে বসে আছি। কথায় কথায়, যেখানে
সেখানে, যে কোন বিষয়ে ওয়াদা বা প্রতিজ্ঞা করে ফেলি। শুধু তাই নয় অনেক সময়
সেই ওয়াদার সাথে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে, মহাগ্রন্থ কুরআনুর কারিমের নাম
নিয়ে কুসম পর্যন্ত করে ফেলি। বিশেষ করে টাকা ঋন নেওয়ার ক্ষেত্রে ও বেচা
কেনার ক্ষেত্রে এই প্রতিজ্ঞা ও কুসমের ব্যবহার হয় বেশি। কিন্তু তা পালন
করার ব্যপারে কোন খবর আমাদের থাকে না এবং পরওয়াও করিনা। অথচ কুরআনুল কারিমে
এবং হাদিস শরিফে এ ব্যপারে কঠিনভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মহান আল্লাহর
বানী- আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর যখন তোমরা একে অপরের সাথে অঙ্গীকার করো
এবং পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করোনা। সুরা আন নাহল, আয়াত নং-৯১।
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- হে মুমিনগণ তোমরা অঙ্গিকার পূর্ণ কর। সুরা আল মায়েদা, আয়াত নং-১।
আরেক জায়গায় মহান আল্লাহ ঘোষনা করেন- তোমরা ওয়াদা পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই ওয়াদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত নং-৩৪।
প্রতিজ্ঞা
ভঙ্গকারী সম্পর্কে সতর্ক বানী। যারা ওয়াদা ভঙ্গ করে আল্লাহ তায়ালা তাদের
পছন্দ করেন না। সুরা আনফাল, আয়াত নং-৫৮। হাদিস শরিফে এসেছে। ওয়াদা ভঙ্গ করা
মুনাফিকের লক্ষণ। রাসুল করিম দঃ বলেন- মুনাফিকের নিদর্শণ তিনটি। ০১. যখন
সে কথা বলে মিথ্যা বলে। ০২. যখন ওয়াদা বা অঙ্গিকার করে তা ভঙ্গ করে। ০৩. আর
তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখলে সে তা খেয়ানত করে। বুখারী ও মুসলিম শরিফ।
৩৩ ও ৫৯। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তিন শ্রেণির মানুষের সাথে কথা বলবেন না।
তাকাবেন না এবং তাদের শান্তি দিবেন। এদের মধ্যে একজন হলো যে ব্যক্তি মিথ্যা ওয়াদা করে এবং তা ভঙ্গ করে। মুসলিম শরিফ, ১০৬।
কুরআন
হাদিসের উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আমরা যেভাবে প্রতিজ্ঞা বা
ওয়াদাকে সাধারণ বিষয় হিসাবে দেখছি তা কিন্তু নয়। বরং তা গুরুত্বপূর্ণ একটি
ব্যপার। এই ব্যাপারে আমাদেরকে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে। তাছাড়া
মুনাফিকের নিদর্শণ সমুহের একটি নিদর্শণও এই অঙ্গিকার ভঙ্গ করা। আর
মুনাফিকের শাস্তি হবে জাহান্নামের তলদেশে।
অতএব আমাদের সবারই উচিত এ
ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং অঙ্গিকার পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করা। যার সাথে বা
যেভাবেই ওয়াদা করা হোক না কেন তা পূর্ণ করা। যে বিষয়ে আমি ওয়াদা পূর্ণ করতে
পারবনা সে বিষয়ে কথা না বলা বা ওয়াদা না করা। আর যদি প্রতিজ্ঞা করেই ফেলি
তা যে কোন মূল্যে পূর্ণ করা।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
