মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬
২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা: ভূরাজনীতির সাপলুডো খেলা
মঞ্জুরে খোদা
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম আপডেট: ০১.০৩.২০২৬ ১:৪৮ এএম |

 ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা: ভূরাজনীতির সাপলুডো খেলা
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বেশ উত্তেজনাকর ও বৈরী। একে অন্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পর্যায়ের হুমকি-পাল্টা হুমকি দিয়েই যাচ্ছিল। আশঙ্কা ছিল যেকোনো সময় আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটবে। অবশেষে তাই ঘটল। গত সপ্তাহেই হোয়াইট হাউসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইরানে কি সহসা কোনো হামলার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে? তিনি বলেছিলেন, “এই বিষয়টি একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পই জানেন; তিনি যখন যেটা মনে করবেন, সেটা করবেনই।” তার সেই কথারই যেন প্রতিফলন ঘটল শনিবার সকালে, যখন ইরানে হামলা চালাতে শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রধান শহরগুলোর ওপর বিকট শব্দে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকল। সংবাদে জানা গেল যে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনির বাসভবনেও চারটি জেট বিমান নিয়ে হামলা করা হয়েছে।
কেন এই হামলা? এটা কি অনিবার্য ছিল? কোনোভাবেই কি এই যুদ্ধ এড়ানো যেত না?
এই প্রসঙ্গে ক’দিন আগে ইরানকে দেওয়া শর্তের বিষয়টি উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পর্যবেক্ষক ও গবেষক এবং ব্রিটিশ চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যান্ডোক্স বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তির ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো দিয়েছেন তা অত্যন্ত ধূর্ত ও মজার। কারণ এগুলো ইরানের পক্ষে মানা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি তেহরান কখনো মানবে না। আর এই ঘটনাই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার পথ সুগম করে দেয়।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বোঝাপড়া বা অনাক্রমণ নিয়ে এতদিন যে যে শর্ত নিয়ে দেনদরবার চলছিল-সেগুলো হচ্ছে: ১. ইরান তার সমৃদ্ধ করা ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে ফেলবে। ২. তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করবে। ৩. ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করবে। ৪. মিসাইল কর্মসূচি স্থগিত করবে। ৫. সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননের সশস্ত্র মিত্রদের সহায়তা বন্ধ করবে।
গত বৃহস্পতিবার জেনিভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান তখন জানিয়েছিল, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে এবং খুব দ্রুতই পরবর্তী বৈঠক হবে। ইরানও এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সেই সময়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছিল, “আমরা কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করি, তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।” তার মানে আমেরিকা লুডোর ঘুঁটিটা ঠেলে ইরানের হাতে দিল, যাতে ছোবল দেওয়ার একটা বৈধ অজুহাত তৈরি করা যায়।
মার্কিন সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হয়ে যায় যখন যুক্তরাজ্য তেহরান দূতাবাস থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে বলে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়। লেবাননের বৈরুত দূতাবাস থেকেও জরুরি নয় এমন সব কর্মীকে সরিয়ে নেয় ওয়াশিংটন। চীন, ভারত ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের অতিদ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশও এই পথ অনুসরণ করে।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এবারই মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে চুক্তি হচ্ছে নাকি সামরিক পদক্ষেপ। সেই হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে তার ঘোষিত ‘ডেডলাইন’—হয় চুক্তি, নয় সামরিক পদক্ষেপ।
ইরান-আমেরিকার উত্তেজনার পারদ ওপরে ওঠে গত বছর ডিসেম্বরের শেষে। মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তির দীর্ঘ বাণিজ্যিক অবরোধ, আঞ্চলিক মিত্রশক্তিগুলোর অস্ত্র ও অর্থের জোগান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বাড়তি বরাদ্দ, নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটের কারণে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। যেখানে যুক্ত হয় দেশের ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। নতুন বছরে সেই আন্দোলন ব্যাপকতা পায় এবং সহিংস রূপ নেয়। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়।
এই সময় ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের নেতাদের হুমকি দিয়েছিলেন এই বলে যে-হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না। সেটা না করা হলে তিনি তখনও সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন। ইরানের শাসকও ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও নাক গলানোকে তারা সমর্থন করেন না।
সামাজিক অসন্তোষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সেই পরিস্থিতি আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সুযোগ করে দিয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার। অন্যদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীরাও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের জন্য প্রকাশ্যে অনুরোধ ও আহ্বান জানায়। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ প্রবাসী ইরানিও এই আহ্বান জানান। তাদের অনেকেই ৪৭ বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত রেজা শাহ পাহলভির পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন এবং তার ছবি ও তাদের পূর্বের ঐতিহ্যবাহী পতাকা প্রদর্শন করেছেন।
২০০২ সালে জর্জ বুশ ইরাকের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের শাসনব্যবস্থা যেকোনো দিন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরাক পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে এবং এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই বোমা তৈরি করতে পারে। এই সতর্কবার্তা যদি যথেষ্ট ভয়ের উদ্রেক না করে, তাহলে এক অজানা পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হবে আমাদের।
পরবর্তীতে বিশ্ব জানতে পারে, ইরাক আক্রমণের পেছনে বুশ প্রশাসনের যুক্তি কতটা বিকৃত গোয়েন্দা তথ্য ও মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছিল। ইরাকের কাছে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল না এবং তারা তা তৈরিও করছিল না। তবু তাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয়। ২০০৩ সালের মার্চে আক্রমণ শুরু হলে জনমত জরিপে দেখা গেল ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। বুশের জনপ্রিয়তা ওপরে উঠে গেল। এতে বোঝা যায়, যুদ্ধ একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়াতে কীভাবে ভূমিকা রাখে।
ডনাল্ড ট্রাম্পও ইরাকের মতো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু কেন আক্রমণ করবেন বা ইরান কি আসলেই আমেরিকার জন্য হুমকি কি না, সে বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি তথাকথিত পারমাণবিক হুমকির কথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু তা তার দেশে বুশ আমলের মতো খুব জনসমর্থন পাচ্ছেন-বিষয়টি এমন নয়।
২০ বছর আগে বুশ যখন ইরাক আক্রমণ করেছিলেন তখন বিশ্ব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। মানুষের স্মৃতিতে টুইন টাওয়ারে হামলার বিষয়টি ছিল দগ্দগে। এরপর আফগানিস্তানসহ বিশ্বে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এখন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে। গত মাসে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে, যা ইরাক আক্রমণের জনমতের বিপরীত চিত্র।
গত সপ্তাহে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প ইরান নিয়ে তার লক্ষ্য পরিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে মাত্র তিন মিনিট ইরান নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।” কিন্তু কেমন চুক্তি-তা স্পষ্ট করেননি। তিনি আরও বলেন, “আমার পছন্দ কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত, আমি কখনোই বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে দেব না।” কিন্তু ইরান কি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি করেছে?
ট্রাম্প ইরানের যে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের কথা বলছেন, ইরান কখনোই দাবি করেনি যে তারা তা অর্জন করতে চায়। বরং তেহরান বারবার এই দাবি করেছে ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে-তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য। ট্রাম্পের ভাষণের আগেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, “ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।” আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (ওঅঊঅ) তথ্যমতে, ২০২৫-এর শুরুতে ইরানের কাছে ছয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। তবে অনেক বিশ্লেষক বলেন, ইরান এখনো অস্ত্রায়নের পথে যায়নি।
গত বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছেন। তাহলে প্রশ্ন-ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যদি ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আবার কেন বিশাল সামরিক উপস্থিতি? কিন্তু ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায়, দুটি স্থাপনার সামান্যই ক্ষতি হয়েছে, যতটা দাবি করা হয়েছিল আদতে তা নয়।
আলোচনার পাশাপাশি আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে। ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; তারাও পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। তারাও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ইরানের ভৌগোলিক ও সামরিক অবস্থান ইরাকের মতো নয়। গত বছর মার্কিন হামলার মুখে পাল্টা আক্রমণে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের ঝুলিতেও আছে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম। হরমুজ প্রণালি হচ্ছে তেল রপ্তানির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। পাশাপাশি চীন-রাশিয়ার মতো পরাশক্তিও তাদের মিত্র। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা ও চুক্তি আছে।
সমকালীন ইতিহাসে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের নানা যুদ্ধের ইতিহাস দেখিয়েছে যে, যুদ্ধ কতটা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবুও ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নিলেন-যার অভিঘাত কতদূর যেতে পারে তা পরিষ্কার বলা কঠিন। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, অভিবাসন সংকট, তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ অনেক কিছুই ঘটবে। কেননা বিশ্বের ২১ শতাংশের বেশি তেল পরিবহনের রুট এটি। দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অবরোধ আর অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভে জর্জরিত ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের এই আঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলাটা অসম। বিপরীতে পরাশক্তি আমেরিকা, যার সঙ্গে রয়েছে ইসরায়েল, যে কিনা আর্থিক, সামরিক ও বৈশ্বিক প্রভাবের দিক থেকে সবার শীর্ষে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবোত্তর কাল থেকে এ পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বটা অনেকটা সাপলুডো খেলার মতোই ছিল। কখনো আকস্মিক সিঁড়ি পেয়ে যাওয়া, কখনো আবার হঠাৎ সাপের মুখে পড়তে পড়তে বেঁচে যাওয়া। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সেখান থেকে শেষ রক্ষা হবে না। বিষধর সাপ যেভাবে অকস্মাৎ ছোবল দিতে শুরু করল, সময়ই বলবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অমীমাংসিত খেলার পরিণতি কী হবে?
লেখক-গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সমন্বয়ক।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কবি ও কবিতা: বেদনার শতদল
ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও আজান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
বুড়িচংয়ে উপজেলা দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিল
ব্রাহ্মণপাড়ায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিদ্যালয়ে যোগ দিলেন প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় মন্দিরে ও মসজিদের সামনে ককটেল হামলার ঘটনায় মামলা
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার তাগিদ
হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতেগ্রেপ্তার
আইইবি কুমিল্লা কেন্দ্রের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
জাপানে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে : খাদ্যমন্ত্রী
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২