শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২
সরকার নতুন, প্রত্যাশা পুরোনো
মহিউদ্দিন খান মোহন
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম আপডেট: ২৮.০২.২০২৬ ১:১৯ এএম |

  সরকার নতুন, প্রত্যাশা পুরোনো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে বিএনপি এখন সরকারে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিনই শপথ নিয়েছেন তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। তিনি ছাড়া আরও ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন সে মন্ত্রিসভায়। তাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় পাঁচজন ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় পাঁচজনকে তার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এতে নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণ ঘটেছে। সেখানে যেমন রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো প্রবীণ নেতা, তেমনি ইশরাক হোসেনের মতো তরুণ নেতাও রয়েছেন। নবীন-প্রবীণের এ সম্মিলন সরকারকে কতটা গতিশীল করবে তা নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। 
তবে কেউ কেউ ইতোমধ্যে মন্তব্য করেছেন, মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কেননা, সেখানে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খানের মতো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের রাখা হয়নি। দুবারের মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারণে বিশ্রামে রাখা হয়েছে এবং তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে, এমন একটি খবর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে ড. আবদুল মঈন খানের ভাগ্যে কী আছে তা বলা যাচ্ছে না। যদিও কেউ কেউ অনুমান করছেন, তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাজনীতি-অভিজ্ঞ মহলের অভিমত হলো, জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেয়ে ড. মঈন খানকে মন্ত্রিসভায় বেশি প্রয়োজন ছিল। কেননা, তিনিও দুবারের সাবেক মন্ত্রী এবং দায়িত্ব পালনে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। অনেকেরই ধারণা ছিল, বিশ্ব্যবাংক-আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষাকারী ড. মঈন খানকে অর্থ কিংবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কেউ কেউ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদেও দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু কোন কারণে তিনি এখন পদহীন তা অবশ্য বিএনপির বাইরে থেকে বলা সম্ভব নয়।
কথা উঠেছে তারেক রহমান কেবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও। বাংলাদেশে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘকাল বিদেশে অবস্থানকারী এই প্রশ্নবোধক ব্যক্তিকে হঠাৎ করে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন ডেকে এনে দেশের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে সম্পৃক্ত করেছিলেন, তা এখনো রহস্যাবৃত। তবে যে খবরটি বাজারে চাউড় হয়েছে, তা হলো একটি প্রভাবশালী দেশের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে তার এ নিয়োগে। এসবই হাওয়া থেকে পাওয়া খবর। সত্যতা যাচাই করা যায়নি, সম্ভবও নয়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন তারেক মন্ত্রিসভার এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তখন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সরকার বিদায় নেওয়ার আগেই তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন। তার পর আর দেশমুখী হননি। শোনা যায়, তিনি একটি শক্তিধর রাষ্ট্রের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী একজন ব্যক্তি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হতে পারেন কি না। ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী পদে বসার জন্য তাকে গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিতে হয়নি। কিন্তু বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তাকে গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিতে হয়েছে। 
একজন ব্যক্তি, যিনি স্বদেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন একটি দেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে নাগরিকত্ব নেন, তার কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপর্ণ গোপনীয় বিষয় কতটা নিরাপদ থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিশ্চয়ই অমূলক হবে না। যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে একজন ব্যক্তি দেশের জাতীয় সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারান, সেখানে খোদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তেমন একজন ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি সংগত কারণেই সচেতন নাগরিকদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ব্যক্তি যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ করা হয়েছিল। সভা-সমাবেশের বক্তৃতায়, দলীয় বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা তার নিয়োগকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। এমনকি তাকে অপসারণ করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কাছে চিঠি দিয়েও বিএনপি দাবি জানিয়েছিল। বিদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে কয়দিন আগে বিএনপি যার অপসারণের দাবি করেছিল, তাকেই কেন বিএনপির মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হলো, এর অন্তর্নিহিত কারণ দলটির নীতিনির্ধারকরাই বলতে পারবেন। 
‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’, ‘চিরবন্ধু চিরশত্রু’ নেই, এসব আপ্তবাক্য আমরা প্রায়ই শুনি। তার পরও কথা থেকে যায়। রাজনীতি কি এতটাই হালকা বিষয় যে, পরশু যে লোকটি আমার বুকে ছুরি মারতে উদ্ধত হয়েছিল, তাকেই আজ আমার বুকে টেনে নিতে হবে? ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার গজবের কথা কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ওই বছরের ১১ জানুয়ারি তা জারি করা হয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে তা ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। সে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে একটি অংশের কার কী ভূমিকা ছিল দলটির নেতা-কর্মী-সমর্থক কিংবা সাধারণ মানুষকে তা মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার পড়ে না। ওয়ান-ইলেভেনের উদ্যোক্তাদের ‘মাইনাস ফর্মুলা’র প্রধান টার্গেট ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে রাজনীতি শুধু নয়, দেশ থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে তখন ফখরুদ্দীন আহমদ ও জেনারেল মঈন উ. আহমদের সরকার হেন চেষ্টা নেই যা করেনি। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন দৃঢ়তায় রাজনীতি ও দেশত্যাগে রাজি হননি। সেজন্য প্রায় ১১ মাস তাকে বন্দি জীবনযাপন করতে হয়েছে। সে সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নিমর্ম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তখন বিএনপির তথাকথিত সংস্কারপন্থিরা ওয়ান-ইলেভেন সরকারের মদতে আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ভাঙার তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন। সে চক্রান্তে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী বিএনপি নেতাদের অন্তত তিনজন তারেক রহমানের কেবিনেটে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই করে নিতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে সে সময়ে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছায়াসঙ্গী রুহুল কবির রিজভী মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। যদিও সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে তাকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এ পদায়ন রিজভী খুশি মনে গ্রহণ করেছেন কি না তা অবশ্য জানা যায়নি। অনেকের মতে, এটা তার কাছে হয়তো কুইনাইনের মতো সুস্বাদু মনে হতে পারে।
দীর্ঘ কুড়ি বছর পর বিএনপি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে। বিগত ১৫ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে জঞ্জালের স্তূপ রেখে গেছে, তা পরিষ্কার করে বাংলাদেশকে ঝকঝকে তকতকে করার দায়িত্ব বর্তেছে বিএনপি তথা তারেক রহমানের ওপর। দুঃসহ দুটি দশক পার করতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে, যখন গণতান্ত্রিক অধিকার হয়েছিল লুণ্ঠিত, মানবাধিকার হয়েছিল পদদলিত। মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা হয়েছিল আইন নামের অস্ত্রটির অপব্যবহার করে। উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় তহবিলের যথেচ্ছ লুটপাট, ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজারকে তছনছ করে ব্যাপক অর্থ পাচার করা হয়েছে দেশের বাইরে। মানুষের নিরাপত্তা বলতে কিছু ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের উৎপাতে সমাজে ভদ্র-নীরিহ মানুষদের থাকতে হতো মুখ গুঁজে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে তার অবসান ঘটেছে। জনগণ আস্থা রেখেছে বিএনপির ওপর। একই সঙ্গে তারেক রহমানকে ঘিরে এ দেশের মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশা পূরণের গুরুদায়িত্বও তারই। বাংলাদেশের মানুষ যে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিয়েছে বিএনপিকে, তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাদের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে এ সরকারকে এগোতে হবে। জনগণের বিশ্বাস, বিএনপি এ দেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে। তাদের সে বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে ওঠে, যখন সে সরকারের নেতৃত্বে তারা দেখতে পায় শহিদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে। তাদের বিশ্বাস, তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টান্ত সর্বোতভাবে অনুসরণ করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের হাতে রয়েছে সোনার কাঠি। সে কাঠি শহিদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি। এ সোনার কাঠিকে জাতির জীয়নকাঠি বলাটা অসংগত হবে না। এ কর্মসূচির দ্বারা প্রেসিডেন্ট জিয়া এ দেশের হতাশায় ঘুমিয়ে পড়া মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। জাগ্রত সে জনতা কাতারবন্দি হয়েছিল তার পেছনে। তারেক রহমানকেও আশান্বিত জনতাকে তার সারথি করতে হবে।
কাক্সিক্ষত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে নতুন সরকার এসেছে। সরকার নতুন হলেও জনগণের প্রত্যাশা সেই পুরোনোই। তাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় দেশে নিরুপদ্রব জীবনযাপন। আর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নবগঠিত বিএনপি সরকারের। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনযাপনে বাধ্য হয়ে তারেক রহমান রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের কদর্য রূপ দেখেছেন, নিজে ভুক্তভোগী হয়েছেন। সেসব দুঃসহ স্মৃতি মনে রেখে জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি নিশ্চয়ই সচেষ্ট হবেন।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বৃদ্ধ বয়সে ওয়াদা দিয়েছি আল্লাহ যেন পূরণ করেন
‘ক্রসফায়ার’ থেকে আবুকে বাঁচাতে পিতার অবদানের কথা তুলে ধরলেন মনির চৌধুরী
প্রবাসে যাওয়ার একদিন পরই মুরাদনগরের তরুণ রিফাতের মৃত্যু
ঢাকা থেকে লুট হওয়া ট্রাকভর্তি ৯টি নতুন মোটরসাইকেল লাকসাম থেকে উদ্ধার!
সবুজে সেজেছে ফসলের মাঠ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
গণভোটের ফল সংশোধন
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুর পিতার ইন্তেকাল
এগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব
সরকারি দাম তোয়াক্কা না করেই বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস
নিমসার বাজারে চাঁদাবাজি অভিযানে গ্রেপ্তার৯
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২