রণবীর ঘোষ কিংকর।
চান্দিনা
পৌরসভার প্রধান বাজার এলাকায় ড্রেনের নোংরা পানি উপচে সড়কে পড়ায় চরম
দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারীরা। যথাযথ পানি
নিষ্কাশনের উদ্যোগ না থাকায় বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে
কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থৈ থৈ করছে। এতে পবিত্র রমজান মাসে
জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ কোটি টাকা
ব্যয়ে ২০১৯ সালে মহাসড়কের কাঠেরপুল থেকে বাজার হয়ে পালকি সিনেমা হল পর্যন্ত
সড়ক সংস্কার এবং দুই পাশে বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই
অপরিকল্পিত নির্মাণ ও তদারকির অভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি থেকে যায়।
ফলে ড্রেনের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থেকে এখন
সড়কে উপচে পড়ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে ড্রেনের
পানি উপচে পড়ে ছোট ছোট খানাখন্দে জমে আছে। নোংরা পানির দুর্গন্ধে নাক চেপে
চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। মাছি-মশার উপদ্রবও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
বিশেষ করে নারীদের চলাচলে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। আর ওই নোংরা পানি অতিক্রম
করতে গিয়ে বোরকা ও কাপড়-চোপড় নষ্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চান্দিনা বাজারের
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দোকানের সামনের সড়কে পানি জমে
রয়েছে। দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের
আসা-যাওয়া কমে গেছে, বিক্রিতেও প্রভাব পড়ছে। তারা জানান, বিষয়টি পৌর
কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাজারে আসা
পথচারী ইসমাইল হোসেন বলেন, “রমজান মাসে এমন দুর্গন্ধ খুবই কষ্টদায়ক। নোংরা
পানি পার হয়ে বাজারে আসা-যাওয়া করা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয়দের
অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক
সেবায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশন ও মশক নিধনে
কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে চান্দিনা
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক
বলেন- বিষয়টি যেহেতু জেনেছি, আজ রাতেই নিস্কাশনের উদ্যোগে নিব।
