মহান
আল্লাহ তাঁর বান্দাহকে সীমাহীন ভালবাসেন। আমাদের সৃষ্ঠি থেকে এই ভালবাসা
শুরু। যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে অর্থাৎ মানবজাতীকে সৃষ্টির
সিদ্ধান্ত নিলেন। সর্ব প্রথম ফেরেশতাদের সাথে আলোচনা করলেন। ফেরেশতারা
সম্মতিতো দিলইনা বরং তাঁদের মতামত আমাদের বিপক্ষে গেল এবং যুক্তি দিয়ে বলল
হে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ আমরাইতো তোমার ইবাদত ও তাসবীহ, তোমার পবিত্রতা
সর্বদা বর্ণনা করি। তাহলে আর কি প্রয়োজন? এমন একটি জাতি তৈরী করা যারা
পৃথিবীতে খুন খারাবী আর ফিতনা সৃষ্টি করবে? মহান আল্লাহ তাঁদের সেই মতামতকে
উপেক্ষা করে দয়া ও ভালবাসার মায়ায় আমাদেরকে সৃষ্টি করলেন। সেই থেকে আল্লাহ
রাব্বুল আলামিনের ভালবাসা ও দয়া আমাদের প্রতি শুরু যা আজও বিদ্যমান এবং
কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।
আবার তার বিপরীত শয়তান আমাদের পিছনে লেগেই
আছে কিভাবে আমাদেরকে মহান প্রভুর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। সেখানেও
মহান আল্লাহর দয়ার পরিধি অপরিসীম। একদিকে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে আমরা
প্রতি নিয়ত চলাফেরা করি তার বিপরীতে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধ্বংস বা বিনাস
করার পরিবর্তে আমাদের সমস্ত চাহিদা পূরণ করেই যাচ্ছেন। নিয়ামত দিয়েই
যাচ্ছেন। একবারের জন্যও আমাদের খাদ্যের, আলো বাতাসের, অক্সিজেনের কোন
প্রকার কমতি রাখছেন না। শুধু কারণ একটাই। আর তা হলো বান্দাহর প্রতি
অকৃত্তিম স্নেহ ও ভালবাসা।
অন্যদিকে শয়তান সর্বোচ্চ চেষ্টায় লীপ্ত
আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে। আর এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই সে মহান আল্লাহর সাথে তর্ক
করেছিল। মহান আল্লাহও তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন এবং তাকে সাফ জানিয়ে
দিলেন- তুমি যতই চেষ্টা করনা কেন আমার বান্দাহকে আমার থেকে দুরে সরিয়ে দিতে
আমিও এমন সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাখবো আমার বান্দার জন্য যেন তারা অনায়াসেই
আবার আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। আর এই রাহমাতি সুযোগের একটি হলো মাহে
রামাদ্বান। যা আল্লাহ তায়ালা ভালবাসা দিয়ে সাজিয়ে আমাদেরকে উপহার হিসাবে
দিয়েছেন যাতে আমরা যদি গুনাহের কারণে দুরে সরে যাই মহান আল্লাহ থেকে তাহলে
সামান্য একটু খালেছ তাওবা, সামান্য একটু ইবাদত সকল গুনাহসমূহকে ধুয়ে মুছে
সাফ করে দিয়ে আমাদেরকে করে তুলবে পুতঃ পবিত্র বান্দাহ হিসাবে মহান রবের
দরবারে। এই সকল আয়োজনই হলো আমাদের প্রতি সৃষ্টিকর্তার ভালবাসা ও অনুগ্রহের
ফল। ভালবাসা ও মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করে আমাদেরকে আপন করে নিতে চান আর চার
আমার ভালবাসার তৈরী বান্দাহ থাকুক চিরস্থায়ী সুখে আর পরকালে ভোগ করুক আমারই
বানানো সুখ শান্তি ও রহমতে ঘেরা জান্নাতে। যেখানে থাকবেনা কোন ভয় বা
চিন্তা ও আশঙ্কা। বান্দাহ আল্লাহর জন্য সবকিছু কুরবান করে দিবে আর মহান
আল্লাহ ঐ বান্দাহর দুনিয়া আখিরাতের দায়িত্ত নিয়ে নিবেন। যার দায়িত্ত স্বয়ং
আল্লাহ তায়ালা নিয়ে নিবেন তার মত সৌভাগ্রবান আর কে হতে পারে?
তাই আামদের
সকলের উচিত মহান আল্লাহর এই ভালবাসা ও মায়া মমতাকে ক্বদর বা সন্মান করা।
তবেই আমরা জীেেবনর প্রতিটি ধাপের সফলতা অর্জন করতে পারবো।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব- কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
