কুমিল্লার
দাউদকান্দিতে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪জন দগ্ধ হয়েছেন।
২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বলদাখাল এলাকার পশ্চিম মাইজপাড়ার
তিনতলা ভবনের নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও
প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনাস্থলের
গ্যাস সংযোগটি অবৈধ ছিল বলে জানিয়েছে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা
জানান, সেহরির পর হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। দৌড়ে এসে দেখেন
বাড়িটির নিচতলা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে বাড়িটির
নিচতলার খালি একটি ইউনিট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ির নিচতলার দেয়াল, দরজা,
জানালা উড়ে যায়। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দগ্ধরা হলেন ওই
ভবনের ভাড়াটিয়া মনোয়ারা (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম
(২)।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন সেখানে এসে ভিড় করেন। সেখানকার কয়েকজন
প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হলে তারাও দুটি পাইপলাইন দেখিয়ে ধারণা দেন, হয়ত বাড়ির
মালিক ওই গ্যাস লাইন থেকে অবৈধভাবেই সংযোগ নিচ্ছিলেন। যার লিকেজ থেকে এই
বিস্ফোরণ হয়েছে। ঘটনার পর ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, রান্নাঘরে গ্যাসের
সিলিন্ডার অক্ষত রয়েছে। গ্যাসের রাইজার না থাকলেও বাড়ির এক কোণায় গিয়ে অবৈধ
গ্যাসের সংযোগের দুটি পাইপলাইন দেখা যায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক
সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে
এক নারীর শরীরের দুই শতাংশ, পুরুষটির ৫৪ শতাংশ, অপর নারীর শরীরের ৬৫ শতাংশ
এবং শিশুটির শরীরের ছয় শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দুজনের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি
হওয়ায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের
পরিদর্শক এরশাদ হুসাইন বলেন, “লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে
বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই তাদেরকে
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া
গেছে।
এদিকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের প্রকৌশলী অম্লান
কুমার দত্ত জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে কোনো বৈধ সংযোগ ছিল না। কিছুদিন আগে সেই
অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে হয়ত তারা আবার নিজস্ব কোনো
পদ্ধতিতে এই লাইন ব্যবহার করেছে। আর এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে
দুর্ঘটনার শিকার তিনতলা ওই ভবনের মালিক পিয়ার আহমেদ অবৈধ সংযোগের বিষয়টি
অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কেউ হয়ত শত্রুতা করে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে
থাকতে পারে। যদিও তিনি আগে চোরাই সংযোগ ব্যবহার করতেন বলে স্বীকার করেন।
