নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। কে হচ্ছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক- তা নিয়ে চলছে সরগরম আলোচনা। পাশাপাশি আলোচনা চলছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়েও। তবে নির্বাচন কিংবা প্রশাসক নিয়োগ- শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেনো তা নিয়ে নগরজুড়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র/ প্রশাসক পদে চার নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য কাউসার জামান বাপ্পি, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। দলীয় মনোনয়নে মেয়র পদে নির্বাচন হলে এই চারজনই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই এ চারজনের পক্ষে তাদের সমর্থকরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। নির্বাচনের পর ভার্চ্যুয়াল সে প্রচারণায় জোর হাওয়া লেগেছে।
পাশাপাশি যদি নির্বাচনের পূর্বে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়- সে ক্ষেত্রেও আলোচনায় আছে এ চারজনের নাম। যেহেতু দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাই ধারণা করা হচ্ছে- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ হলেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত থাকা ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দুইবার প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শাহআলম। যদিও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার ভোটার এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে ঘিরে নগরজুড়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশার পারদ ক্রমেই বাড়ছে।
২০১১ সালের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত তিনবার নির্বাচন ও একবার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরীর বাসিন্দাদের মতে, নগরবাসীর দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সমাধানে সক্ষম, দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাসম্পন্ন প্রার্থীই তাদের প্রথম পছন্দ।
কুমিল্লা নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। যা প্রতিদিন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির নাগরিকের জীবনকে নাকাল করে তুলেছে। অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং ও যানবাহনের চাপের কারণে এই সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। এর পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকা পানির নিচে চলে যায়, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
বাসিন্দারা বলছেন, এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পিত সড়ক নেটওয়ার্ক এবং জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা খাতেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
