আমাদের
জীবনের প্রতিটি ধাপে যতগুলো আমল আছে তা বিভিন্ন পর্যায়ের। কোনটি ফরজ,
কোনটি ওয়াজিব, কোনটি সুন্নাত আবার কোনটি নফল বা মুস্তাহাব। রোজা হলো ফরজ
আমলের অন্তর্ভুক্ত। যার কোন ছাড় নেই।।
প্রত্যেক মুসলমান নর নারী যারা
প্রাপ্ত বয়স্ক ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্য সবার জন্য নিজে রোজা রাখা ফরজ। তবে
অধিক অসুস্থ ব্যাক্তি চাই তা বয়সের কারণে হোক বা রোগের কারণে হোক নিজে রোজা
রাখতে না পারলে তা অন্য একজন রোজাদার ব্যক্তির দু বেলা খাদ্যের ব্যাবস্থা
বা খরচ দিয়ে দিতে হবে।
রোজা আমলের দিক থেকে অনন্য। শৃংখলাবদ্ধ আহার পদ্ধতি ও খাদ্যভ্যাস গড়ে তুলতে রোজার কোন বিকল্প
নাই। আবার ইবাদতের দিক দিয়ে যদি ছাওয়াবের কথা চিন্তা করি তাহলে এই রামাদ্বান মাসের একটি নফল
ইবাদত
অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান আবার একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের কমপক্ষে ৭০টি
ফরজ ইবাদতের সমান। একটু চিন্তা করলে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত যা ফরজ। অন্য মাসে
তা আদায় করলে দশগুন ছাওয়াব বা মহান আল্লাহ যেই বান্দাকে যতদুর ছাওয়াব দিতে
চান সেটা আল্লাহর ইচ্ছা। তবে দশগুনের কমতো নয়ই। কিন্তু রোজার মাসে যদি সেই
নামাজ আদায় করা হয় তা সর্বনিম্ন সত্তর গুণ। আপনি আমি নামাজ আদায় করলাম পাঁচ
ওয়াক্ত ছাওয়ার পেলাম ৫০৭০=৩৫০ ওয়াক্তের। এটা হলো প্রতিদিনের হিসাব। এভাবে
যদি হিসাব করি এক মাসের তাহলে তা দাঁড়ায়- ৩৫০ দ্ধ ৩০=১০,৫০০ ওয়াক্তের।
একমাসে নামাজ পড়লাম ১৫০ ওয়াক্তের আর দয়ল আল্লাহ আমার আপনার আমলের খাতায়
ছাওয়াব দান করলেন ১০,৫০০ ওয়াক্তের। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আল্লাহু
আকবার। অন্যান্য ইবাদত অর্থাৎ সুন্নাত, নফল ইত্যাদিতো আছেই আপন অবস্থানে।
মহান আল্লাহর চাহিদা একটাই বান্দাহকে কিভাবে জান্নাতবাসী করা যায়। তাইতো
আমরা হাদিস শরিফে দেখতে পাই-নূর নবিজী দঃ এর দারবারে এক সাহাবা যার নাম
হযরত আবু উমামা রাঃ তিনি এসে রাসুল করিম দঃ এর নিকট আরজ করলেন ইয়া
রাসুলাল্লাহ দঃ আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যেটা অনন্য একটি ইবাদত।
প্রতিত্তরে রাসুল করিম দঃ বললেন" তুমি রোজা রাখ কেননা এটি অনন্য একটি ইবাদত
যার তুলনা নাই।" হযরত
আবু উমামা রাঃ বল্লেল ইয়া রাসুলাল্লাহ দঃ অবশ্যই
আমি এর উপর আমল করব। আর কোন ইবাদত আছে কি? হুজুর করিম দঃ বল্লেন যে রোজা
রাখ। এভাবে তিনবার বল্লেন। নাসাঈ শরিফ, কিতাবুস সিয়াম, হাদিস নং-২২২০। অন্য
এক হাদিস শরিফে রাসুল করিম দঃ বলেন যে মানুষ যদি রামাদ্বান শরিফের রহমত ও
বরকতের ব্যাপারগুলো পরিপূর্ণ জানতো তাহলে তারা সারা বৎসর রোজা রাখত।
অতএব
আমাদের সবার উচিত এই রামাদ্বান মাসের রোজাগুলোর যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে
মূল্যায়ন করা এবং শুদ্ধভাবে রোজা পালনসহ ইবাদত বন্দেগীতে লীপ্ত থাকা। মহান
আল্লাহ প্রতিটি মুসলমান নর নারীকে সেভাবেই কবুল করুন। আমীন।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
