সাংগঠনিকভাবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলায় যে ৬টি আসন তাতে সমানে-সমানে ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে শুরু থেকে নানান জটিলতা থাকলেও এই আসনগুলো এসব জটিলতা কাটিয়ে তুলেছে বিএনপি। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসনগুলোতে প্রথম থেকেই একক প্রার্থী দিয়ে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনমুখী করে রেখেছে দলকে। এসব আসনে এই দুই দলেরই প্রভাবশালী প্রার্থীরা লড়াইয়ে নেমেছেন। এসব আসনে জাসদ, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের দখলে থাকা এই আসনগুলোতে ৫ আগষ্টের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে তা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতার পূর্র্বাভাস দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোট প্রদানের হার এবং যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা তাদের সমর্থিত ভোটাররাই এই আসনগুলোতে নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে। সবকিছু মাথায় রেখেই এখন এসব আসনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। চলছে জমজমাট নির্বাচনি প্রচারণা। কোথাও কোথাও প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনাও ঘটছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংবাদকর্মী মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, এই অঞ্চলের আসনগুলোতে নির্বাচনি লড়াই অনেকটা একপেশে হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। সেটা বড় দু’টি পক্ষের জন্যই। যে কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি একটা চ্যালেঞ্জ হবে। যাদের অনুসারী ভোটার বেশি কেন্দ্রে যাবে ফলাফল তার পক্ষে যাবে সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ করে সেভাবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন কি না -এটা তেমন দেখা যাচ্ছে না।
কুমিল্লা-৫ আলোচনায় দুই নতুন প্রার্থীর লড়াই:
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া এই দুই টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসন গঠিন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪২ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাক ২৭ হাজার জন। সীমন্তি এলাকা হওয়ায় আসনটির ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। আসনটিতে মোট প্রার্থী ৯ জন হলেও এখানে প্রচার-প্রচারণায় প্রকাশ্যে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মোবারক হোসাইন। এছাড়াও এখানে প্রার্থীতায় রয়ে গেছেন জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী এবি পার্টির ব্যারিষ্টার যোবায়ের আহমেদ।
১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মাত্র একবার এই আসন থেকে বিএনপি নির্বাচিত হয়। এছাড়া আসনটি দখলে ছিলো আওয়ামীলীগের। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর দখলে থাকা এই আসনটিতে এবার লড়াই করছেন যারা- তারা ভোটের প্রতিদ্বন্দিতায় এবারই প্রথম। তাই নির্বাচনে সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি ভোটারদের মন কাড়া জয়ে ফ্যাক্টর হবে। যেহেতু দীর্ঘ সময় এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের দাপট ছিলো তাই তাদের সমর্থনের ভোট সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল এই আসনে এমপি ছিলেন বিএনপির অধ্যাপক মোঃ ইউনুস।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়েও জটিলতা তৈরী হলেও পরে তা মীমাংসা হয়।
বিএনপি প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন বলেন, আমি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানুষের কাছাকাছি আছি এবং থাকবো- এটা এই এলাকার মানুষ জানে। তাই এবার তারা আমাকেই জয়ী করবে।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী শিবিরের কেন্দ্রিয় সভাপতি মোবারক হোসেন বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি মানুষের দ্বাওে দ্বাওে গিয়ে ভোট চাইছি। আমার প্রতিশ্রুতি শুনে মানুষ বলছে আমাকেই ভোট দিবেন।
কুমিল্লা-৬ আদর্শ সদরে বিএনপি-জামায়াতের জেলার কেন্দ্র জয়ের লড়াই:
দক্ষিণের শুরুতেই কুমিল্লা-৬ আসনটি সব দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ; জেলা সদর ও সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় এই আসন নিয়ে আগ্রহ সব দলেরই। সকল অফিস আদালতের কেন্দ্র এখানে হওয়ায় এই আসনটিতে বিজয় যে কোন দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬২ জন, পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার এবং মহিলা ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার। ১৯৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টি ভোট কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন হলেও প্রধান শক্তিশালী প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এই আসন থেকে বিদ্রোহ করে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন মনোনয়ন জমা দেয়ায় অস্থিরতা তৈরী হয় দলটিতে। ভোটের মাঠেও বিভক্তি দেখা দেয়। পরে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সমঝোতা হলে হাজী ইয়াছিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে ধানের শীষ নিয়ে প্রাচরণা করছেন। এতে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে দলটিতে। সম্প্রতি এই আসনে সফর করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তিনি।
ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দল এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা আগের চেয়ে শক্তিশালী। ভোটাররা আমাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আমরা বলছি, আমরা জয়ী হলে কুমিল্লার মানুষের আকাঙ্খা পূরণে কোন ঘাটতি রাখবো না।
জেলার কেন্দ্রস্থল এই আসনটিতে জয়ী হতে চায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশও। এই আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্¦ীন মোহাম্মদ। শুরু থেকে একক প্রার্থী থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রাচারণায় অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোও সমর্থন দিচ্ছেন এই প্রার্থীকে। সম্প্রতি জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান এই আসনে সফরে এসে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চান।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ৫ আগষ্টের পর এই আসনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা অনেক শক্তিশালী। ভোটাররাও আমাদেরকে ভোট দিবে- ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ী হবো।
কুমিল্লা-৬ আসনে অন্যতম প্রার্থী এবি পার্টির মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক মনোনয়ন বৈধতা পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করেন।
এ আসনে ভোটের প্রচার-প্রচারণা করছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।
কুমিল্লা-৮ বরুড়া (পুরোনো ঘাঁটি ফেরত পেতে চায় বিএনপি) :
বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৫ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৮৪ হাজার। ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে ৮ জন প্রার্থী থাকলেও এখানে মূল প্রতিদ্বন্দীতা হবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রিয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলালের মধ্যে।
কুমিল্লা-৮ আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ তিনটি নির্বাচনেই বিজয়ী হন বিএনপি নেতা প্রয়াত একেএম আবু তাহের। তিনি বর্তমান প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের পিতা। ৫ আগষ্টের আগে সংসদের তিন মেয়াদে এই আসনটিতে কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য হন। এই নির্বাচনে আবারো বিএনপি অংশ নেয়ায় নেতা কর্মীরা বলছেন- তারা আবারো পুরোনো ঘাঁটি উদ্ধার করবেন।
বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, আমার পরিবার এই অঞ্চলের মানুষের পুরোনো সেবক। আমাদের কোন দুর্নাম নাই। তাই আমি আবারো মানুষের কাছে সুযোগ চাই।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল একজন সুপরিচিত শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রিয় মজলিসে সূরা সদস্য । এবারই তিনি প্রথম দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে নির্বাচন করছেন। দীর্ঘদিন অন্যান্য দলের নিয়ন্ত্রনে থাকা এই আসনটিতে জামায়াতও তাদের কাযক্রম চালিয়ে যায়, ৫ আগষ্টের পর যা সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে দলটির নেতাকর্মীরা এই আসনে প্রচার-প্রচারণায় বেশ উজ্জীবিত।
অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান হেলাল বলেন, আমরা বিজয়ী হলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যায় বিচার ব্যবস্থা করবো। আশা করছি কুমিল্লা-৮ আসনের মানুষ আমাকে বিজয়ী করবেণ।
এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে আগে অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিলন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার তিনি মনোনয়নের বৈধতা পাননি, আসনটিতে প্রতিদ্বন্দীতা করবেন জাতীয় পার্টির মোঃ ইরফান।
কুমিল্লা-৯ ভোটের লড়াইয়ে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না জামায়াত; অবশেষে একাট্টা বিএনপি:
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এই দু’টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৯ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৩ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার এ্বং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার জন। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এখানে ৪৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন।
২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ দীর্ঘ সময় এই আসনটিতে সংসদ ছিলো আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ৫ আগষ্ট পরবর্তী পরিবর্তীতে সময়ে দীর্ঘদিন অন্যহাতে থাকে আসনটি দখলে বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই কারো থেকে কারো কম নয়। এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রিয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম যিনি চৈতী কালাম নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে একেএম সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, তিনি সাবেক নির্বাচিত লাকসাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং দলের মজলিশে সূরা সদস্য ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।
বিএনপি অধ্যূষিত বলে পরিচিত আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন জটিলতায় বিভক্তি ছিলো এক সপ্তাহ আগেও। বিদ্রোহ করে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রাথী হন সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের কন্যা প্রভাবশালী নেতা সামিরা আজিম দোলা। যে কারণে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতাও দেখা দেয়। দুইবারের চেষ্টায় দোলা ধানের শীষের কালামকে সমর্থন দেয়ায় বিএনপির অস্বস্তি কেটেছে এই আসনে। ফুটবল প্রতিক নিলেও ধানের শীষ প্রতিকে সমর্থন দিয়েছেন দোলা।
বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, এই আসনে দল এখন ঐক্যবদ্ধ। আমি বিজয়ী হলে ভোটার এবং দলের কোন নেতাকর্মী কেউ বঞ্চিত হবেন না।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী ২০০৯ সালে লাকসাম উপজেলা থেকে নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। আগে জনপ্রতিনিধিত্বে অংশগ্রহণ করায়- লাকসাম মনোগরগঞ্জে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে দাবি সমর্থকদের। এছাড়া কেন্দ্রিয় ও জেলা পর্যায়ের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় দলের সর্বোচ্চ সমর্থন পাবেন তিনি। যে কারণে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় তিনি ভোটের লড়াইয়ে টিকে যেতে পারেন।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, আমি আগেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আশা করি এবার সর্বোচ্চ পরিসরে সংসদ নির্বাচনেও এই এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে।
এই আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে সূরা সদস্য সেলিম মাহমুদ হাতপাখা প্রতিকে নির্বাচন করবেন।
কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) সীমানা বিন্যাস প্রভাব ফেলবে ভোটে
লালমাই ও নাঙ্গলকোট দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ আসন, এই আসনে আগে সদর দক্ষিণ উপজেলাও অন্তর্ভূক্ত ছিলো। বর্তমানে এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার। এই আসনে ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে প্রশাসন।
২০০৮ সাল থেকে কুমিল্লা-৯ আসনের মত এই আসনটিও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দখলে ছিলো। নতুন সীমানায় এই আসন থেকে একটি উপজেলা বাদ পড়ায় ভোটের হিসাবে জয় পরাজয় নির্ধারণও হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। এই আসন থেকে অন্যতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপির প্রার্থী পুরোনো কেন্দ্রিয় নেতা, তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থীও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রিয় সভাপতি।
এবার এই আসনে প্রার্থী নিয়ে জটিলতা থাকলেও সবশেষ আদালতের মাধ্যমে আসনটি থেকে বিএনপির ধানের শীষ পেয়েছেন মোবাশে^র আলম ভুইয়া। গফুর ভুইয়া ধানের শীষ পেলেও নির্বাচন কমিশন থেকে তার মনোনয়ন বাদ হয়। পরে আইনী লড়াই করেও টেকেনি তার প্রার্থীতা। এই সুযোগে প্রার্থীতা ফিরে পান যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়া মোবাশে^র আলম ভুইয়া এবং পান দলীয় প্রতিকও। তবে প্রচার-প্রচারণা শুরুর ৯ দিন পর প্রার্থীতা ঠিক হওয়ায় দীর্ঘ সময় দ্বিধাদ্বন্দে থাকা নেতাকর্মীদের একাট্টা করতে বিএনপি প্রার্থী মোবাশে^র আলম ভুইয়াকে অতিরিক্ত কষ্ট করতে হবে বলে মনে করেন ভোটাররা। যেহেতু দীর্ঘদিন আসনটি অন্যএকটি দলের দখলে ছিলো তাই নতুন করে এই আসনে জিততে সর্বশক্তি ব্যয় করতে হবে বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবাশে^র আলম ভুইয়া। প্রতিক নিয়ে এলাকায় এসে মোবাশে^র বলেন, বিএনপির নেতাকর্মী সবাই আমার আপনজন। যে দ্বিধা ছিলো তা কেটে গেছে। সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন এবং আমাদের বিজয় হবে।
এই আসনে বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী জামায়াতে মজলিশে সূরা সদস্য ও শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত। শুরু থেকে বিএনপির বিভক্তি ও কোন্দলের কারণে তিনি একক ভাবে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সুযোগ পেয়েছেন। নতুন প্রার্থী হলেও দলেও কেন্দ্রিয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় সাংগঠনিকভাবে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে আসনে বিজয়ী হবেন বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।
কুমিল্লা-১১ জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১১ আসনটি গঠিত। ভারত সীমান্ত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথের কারণে ভৌগলিক ভাবে এই আসনটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্¦পূর্ণ। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার জন। আসনটির ১২৭টি কেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আসনটিতে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ এই আসনটি আওয়ামীলীগের রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকের দখলে ছিলো।
এবার নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের এই আসন থেকে দলটির মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী। ২০০১ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। জামায়াত অধ্যূষিত বলে পরিচিত আসনটিতে সাবেক সংসদ সদস্য এবং জামায়াতের কেন্দ্রিয় নেতা এই আসনের প্রার্থী হওয়ায় এখানে বিএনপির জন্য লড়াই বেশ শক্ত হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখান থেকে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা। তফসিল ঘোষণার পর থেকে চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । এছড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানে তাদের নির্বাচনি সফরে চৌদ্দগ্রামে সমাবেশ করেছেন। দুই জনই তাদের প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় সরব এই আসনটিকে যে কোন মূল্যে নিজেদের জয়ী করতে চায় বলে জানা গেছে দলীয় সূত্রে।
জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সবাই আমার আপনজন। আমি এই আসনের সন্তান এবং পরীক্ষিত। দলমত নির্বিশেষে মানুষ আমার পক্ষে থাকবে। আমি তাদের ভোট চাই।
বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, সময় বদলেছে- মানুষ এখন বিএনপিকে চায়।
