রণবীর ঘোষ কিংকর।
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে নির্বাচনী
প্রচারণা এখন শেষ ধাপে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই প্রার্থীদের ব্যস্ততা ও কৌশলগত
তৎপরতা বাড়ছে। এ আসনের রাজনীতিতে এবার মূল প্রতিযোগিতা, সমীকরণ ও ভোট
বিভাজনের আশঙ্কা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে ভোটার মহলে।
নির্বাচনী আচরণবিধি
অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণার নিয়ম থাকলেও
বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রার্থীরা নিয়ম মেনে সভা-সমাবেশ পরিচালনার পাশাপাশি
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নীরব প্রচারণা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ঘরে ঘরে
গিয়ে ভোট প্রার্থনায় মনোযোগ দিচ্ছেন। ভোটের শেষ হিসাব কষতে সরাসরি ভোটারের
কাছে যাওয়াকেই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।
এই আসনে
মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারজন প্রার্থী
দৃশ্যমানভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে আলোচিত ও
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং কলস প্রতীকে বিএনপি
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের মধ্যে। দুজনই চান্দিনার
রাজনীতির মাঠে পরিচিত মুখ এবং তাদের নিজস্ব সমর্থক বলয় রয়েছে। তাদের একজন
প্রবীণ ও অপরজন তরুণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই প্রার্থীর
সমর্থক ঘাঁটি প্রায় একই হওয়ায় ভোট বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অন্য
প্রার্থীদের জন্যও সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিরব ভোট এবং শেষ
মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. রেদোয়ান
আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে প্রচারণা
চালাচ্ছেন। অপরদিকে আতিকুল আলম শাওন তার পিতার মরহুম খোরশেদ আলম এর ইমেজ,
ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তরুণ ভোটারদের ওপর জোর দিচ্ছেন। মাঠের প্রচারণার
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দুজনই সক্রিয় থাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে
আলাদা প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস মনোনীত ১১
দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সোলেমান খাঁন ধর্মভিত্তিক ভোট ব্যাংকের ওপর
নির্ভর করে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি
এহতেশামুল হক কাসেমী নৈতিকতা ও ইসলামী শাসনব্যবস্থার বার্তা নিয়ে ভোটারদের
কাছে যাচ্ছেন। তবে মাঠের প্রচারণায় তেমন নেই মুক্তিজোট প্রার্থী সজল কুমার
কর।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য,
কর্মসংস্থান ও এলাকার নিরাপত্তা এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে
এসেছে। অনেক ভোটার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, যা শেষ মুহূর্তে ফলাফলে
বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৭
চান্দিনা আসনের নির্বাচন এবার শুধু দলীয় লড়াই নয়, বরং ব্যক্তি জনপ্রিয়তা,
ভোট বিভাজন এবং শেষ মুহূর্তের কৌশলের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে এমনটাই
মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
