আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে “চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ”
স্লোগান ধারণ করে সমৃদ্ধ কুমিল্লা বিনির্মাণের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন
কুমিল্লা-৬ আসনে এগার দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী
দ্বীন মোহাম্মদ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর
নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীতকরণ, আধুনিক
ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনসহ নাগরিক জীবনের
মৌলিক চাহিদা পূরণে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে তিনি
কুমিল্লাকে কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বৃহত্তর কুমিল্লার জেলাগুলোর যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনায় বিভাগীয় দপ্তর
স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সংস্কার করে
আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কুমিল্লায়
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও
জলাধার খনন ও পরিচ্ছন্ন রাখা, ইপিজেডের বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়
আন্তর্জাতিক মানের পরিশোধনাগার স্থাপন-এসব বিষয়ও অগ্রাধিকার পেয়েছে।
যানজট নিরসনে বড় পরিকল্পনা:
ফুটপাথ
দখলমুক্ত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও
ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি রেললাইন
নির্মাণের উদ্যোগের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।
শিক্ষা খাতে প্রতিশ্রুতি
কুমিল্লায় একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লা জিলা স্কুল ও
ফয়জুন্নেছা সরকারি স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভর্তির কোটা বৃদ্ধি, সদর
দক্ষিণে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কামিল মাদ্রাসা স্থাপন, তরুণদের দক্ষ করে
তুলতে নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায়
উন্নয়ন কুমিল্লা সদর হাসপাতালকে ২৫০ বেডে উন্নীতকরণ, মা ও শিশুদের জন্য
বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ক্যান্সার ও হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক হাসপাতাল গড়ে
তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
অবকাঠামো ও নদী রক্ষা গোমতী নদীর চাঁনপুর
ব্রিজ প্রশস্ত ও মজবুত করা, নদীর দু’পাড়ে বাঁধ নির্মাণ এবং সকল সড়ক প্রশস্ত
ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ মাদক নির্মূলে
সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং সেল গঠন,
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অর্থনীতি
ও কর্মসংস্থান কুমিল্লায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, ফ্রিল্যান্সিং আইটি
পার্ক, নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ঋণ ও বিনা সুদে লোন, কৃষিপণ্যের
ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং স্বল্পমূল্যে সার-বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথা
বলা হয়েছে। শ্রমিকদের সেফটি নেট ও স্বাস্থ্য কার্ড চালুর বিষয়ও উল্লেখ করা
হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাজেট,
ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা, সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত
করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারীর মর্যাদা রক্ষা, ইভটিজিং প্রতিরোধ,
নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনাও
রয়েছে।
প্রবাসী ও গণমাধ্যম রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সন্তানদের
শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, গণমাধ্যম কর্মীদের
প্রশিক্ষণ, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো এবং কুমিল্লা প্রেসক্লাব ভবনকে আধুনিক
কমপ্লেক্সে রূপান্তরের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারে আরও
গুরুত্ব পেয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী
ব্যবস্থার বিলোপ।
