ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খাঁন বলেছেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকেও তারা সম্মান দেননি। শেখ মুজিবকে অসম্মান করলে আমাদেরও কষ্ট লাগে। কিন্তু তার কন্যা মুক্তিযুদ্ধটা আওয়ামীলীগের বানিয়ে ফেলেছে। গত ১৫/১৬ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সুনাম তারা নষ্ট করেছে। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতার ভাগ চাইনা।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের করনীয় নিয়ে পরামর্শ সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহরের জেল রোডস্থ দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক হাজী এমরানুর রেজার সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের একটা পক্ষ জামায়াতের সাথে যাওয়ার কারনে তাদের একটা বিরাট অংশ পদত্যাগ করেছে। জুলাই আমাদের গর্ব। একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে আমাদের সন্তানরা রাষ্ট্রকে উদ্ধার করেছে। জুলাই সনদে আপনার আমার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা হ্যাঁ ভোটে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিবো। ৭১ এর মতো এবারো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা আবারও ফনা তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির হাজার বছরের অহংকার। হীনমন্যতাই ভুগবেননা। নিজেদের দূর্বল মনে করবেননা। আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মুক্ত করতে চাই। এখন প্রায় আড়াই লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এক হতে পারেনা। আওয়ামীলীগ পাঁচ বার মুক্তি যুদ্ধের সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছেন। যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। এটা এবার গেজেট আকারে করা হচ্ছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আমরা হ্যাঁ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবো। হ্যাঁ ভোট আমার আপনার সন্তানের নিরাপত্তা। আমরা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে চাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আল আমিন শাহিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য আলহাজ¦ নুরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড মোঃ আব্দুল মান্নান, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার ফসিউর রহমান হাসান প্রমুখ। পরামর্শ সভায় জেলা সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল, নাসিরনগর, কসবা, আখাউড়া, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও বিজয়নগরের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের কমান্ডারদের নেতৃত্বে জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা অংশ গ্রহন করেন।
