০২.
যৌবন বা শারিরিক শক্তির অহংকার- এই ক্ষেত্রে যৌবনের শক্তির বাহাদুরির
প্রদর্শন আমরা পথে ঘাটে দেখতে পাই। যেই যৌবন দিয়েছিলেন আল্লাহ তায়ালা ইবাদত
করার জন্য সেই যৌবন ব্যয় করা হয় গুনাহ ও অহংকারের মাধ্যমে। কারণ একটাই আমি
যুবক, আমার শারিরীক শক্তি অনেক। আমাকে বাঁধা দিবে কোন কাজে এমন সাহস বা
সাধ্য কার? এই ধারণা থেকে সৃষ্টি হয় বেয়াদবীর। তারপর যা ইচ্ছা তাই করার
চিন্তা চেতনা। অথচ রাসুলে কারীম দঃ কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আরশের ছায়ার
নীচে যে সাত ধরণের ব্যক্তি কথা বলেছেন তার মধ্যে ঐ যুবক একজন যে নিজের
যৌবনকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের কাজে অতিবাহিত করেছে। আমাদের যুবক ভাইয়েরা
অধিকাংশই আছে তার উল্টো পথে। কারণ একটাই আর তা হলো যৌবন ও শারিরীক শক্তি।
এটা সম্পূর্ণ ভুলে যাই আমার মত হাজারো যুবক ও আমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী লোক
করবস্থানে পড়ে আছে। আবার যে কোন সময় আমার এই যৌবন ও শক্তি নিমিষেই মহান
আল্লাহ কেড়ে নিয়ে বিছানায় ফেলে রাখতে পারেন। এর উদাহরণও অনেক আছে আমাদের
আশে পাশেই।
০৩. সম্পদের অহংকার- সম্পদ একটি নেয়ামত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ
থেকে বান্দার জন্য। এর দ্বারা মানুষ গরিবের প্রতি অহংকার বোধ বেশি প্রকাশ
করে। গরীবকে পাত্তাই দিতে চায়না। মানুষ মনে করে এই সম্পদ তার চিরস্থায়ী এবং
তার কাছ থেকে একে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবেনা। গরিব বা অসহায় দেখলেই কেমন যেন
একটু তাচ্ছিল্যমূলক চাহনী। মেজাজটাকে আর ঠিক রাখা যায়না। গরিবের প্রতি
সহানুভতির পরিবর্তে দেখাই বাহাদুরি আর নিজকে বড় বড় ভাব। অথচ একসময়ের
কোটিপতি পরে রাস্তার ফকির এমন বহু নজির আমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান।
০৪.
সৌন্দর্যের অহংকার- এটি তুলনামুলক মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। পুরুষদের
মধ্যে যদিও আছে তবে তুলনামূলক কম। গায়ের রং একটু ফর্সা। চেহরার সৌন্দর্য্য
বেশি। একটু লম্বা হলেই আমাদের পা মাটিতে পড়েনা। হাঁটার ধরণ, কথা বলার
ভঙ্গি কেমন যেন ব্যাতিক্রম। কিন্তু ভুলে যাই এই সৌন্দর্য্যও তো মহান
আল্লাহর দান। আগেই বলেছি সবাই এক রকম নয়। কিছু বান্দাহ বান্দি আছে তারা সব
সময়ই আলাদা।
০৫. জ্ঞানের অহংকার- যে জ্ঞান মানুষকে অমানুষে পরিণত করে সে জ্ঞান কোন জ্ঞানই না। আমাদের
সমাজে
ও রাষ্ট্রে এই ধরণের মানুষের অভাব নেই। আমার জ্ঞান দিয়ে যেখানে মানুষ এবং
সৃষ্টজীব উপকৃত হওয়ার কথা। সেখানে সেই জ্ঞান দিয়ে আমি আমার স্বার্থ উদ্ধারে
তৎপর। জ্ঞানের অহংকারে আমার কাছে কেউ ঘেষতে পারেনা। সবাইকে ম্যু মনে করতে
শুরু করি। কথায় কথায় বলি উঠি আমাকে জ্ঞান দিতে এসোনা। আমার পড়ালেখা এই। আমি
অমুক ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছি। আমার ডিগ্রি এতগুলো। আমার সম্পর্কে
ধারণা আছে তোমার? আরও কত কি?
(চলমান-)
হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ ইব্রাহীম ক্বাদেরী, প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
