জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪
(দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,
এবার ৮০ জনের বেশি ঋণ খেলাপীকে সংসদে যাওয়ার জন্য বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে
যারা জনগণের টাকা মেরে দিয়েছে আবার নাকি তাঁরাই জনসেবা করবে ! যারা
ঋণখেলাপী সংসদে যেতে চায় এরা জীবনেও ঋণপরিশোধ করবে না। যারা রাস্তাঘাটে মার
খেয়েছে, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে এই ঋণ খেলাপীদের
মনোনয়ন দেয়া এটা বিএনপির জন্য লজ্জার। বরং ত্যাগী কর্মীরা যারা রাস্তায়
জীবন দিয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এই ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দেয়া মানে
তাদের গালে জুতার বাড়ি দেয়া। ২৪ পরবর্তী সময়ে আমরা সংসদে কোন ঋণ খেলাপীকে
দেখতে চাই না।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার
পৌরসভার পান্নারপুল এলাকায় ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে একটি
শহীদ হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া -মোনাজাত অনুুষ্ঠানে এসব কথা বলেন
তিনি। এর আগে ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউসুফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন
গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল-বিনিময়, উঠান বৈঠক ও মহিলা সমাবেশে
বক্তব্য রাখেন তিনি।
এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, এই ঋণখেলাপীরা এমপি
হওয়ার পর এই ঋণের অর্ডার আরও বৃদ্ধি করে আবার ঋণ নিবে আবার ঋণখেলাপী করবে।
তাঁরা নিজের পোলাপানকে বিদেশে রাখবে, কানাডা-লন্ডনে বেগমপাড়া বানাবে। আপনি
এলাকার মেম্বার নির্বাচন করবেন কিন্তু এলাকার সবাই আপনার কাছে টাকা পায়
আপনি কি মেম্বার হতে পারবেন ? আপনাকে কি মানুষ ভোট দিবে ? আপনি আগে মানুষের
টাকা ফেরত দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, বিএনপির অনেক ত্যাগী
নেতা আমাদের কাছে এসে বলে এই ১৭ বছর কোথায় কার জন্য শ্রম দিলাম, ঘাম
দিলাম, আমরা রাস্তার মধ্যে মরলাম, আর যারা ক্রীম খেয়ে বিদেশে ছিল তাল দিয়ে
চলছে আওয়ামীলীগের সঙ্গে এবং ঋণখেলাপী তাদেরকে এখন দল মনোনয়ন দিছে সংসদে
যাওয়ার জন্য। অনেকেই বলছেন আবার নাকি অর্থের লেনদেনও হইছে মনোনয়ন নিতে।
হাসনাত
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, দেবিদ্বারের একটি চক্র সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো দখল করে
নিয়েছিল একটি সিন্ডিকেট চক্র সেখান থেকে চাঁদা তুলত এই সিন্ডিকেটকে
নির্মূল করতে হবে। চাঁদাবাজ জিরো, টেন্ডারবাজ জিরো, মাদক জিরো, আমরা এই
জিরো পলিসিতেই থাকব। আমরা হাদি ভাইয়ের স্বপ্নের ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ
গড়ে তুলব।
সভায় আরও বক্তব্য দেবিদ্বার পৌরসভা যুববিভাগের সেক্রেটারী
মো. মামুনুর রশিদ, ২নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো.রিমন
মিয়া, ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারী মো.মজিবুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের
আমির মো. কবির হোসেনসহ জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
