আলমগীর হোসেন, দাউদকান্দি।।
ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের দাউদকান্দিতে বাস দূর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত পিতা-পুত্রের
জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর ২ টায় উপজেলার গৌরীপুর পেন্নাই
শাহী ঈদগাহ মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পেন্নাই গণকবরস্থানে তাদের
সমাহিত করা হয়।
নিহতরা হলো, দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পেন্নাই পলুদ্দিপাড় গ্রামের সামছুল আলমের ছেলে মো. শামীম (৪১) ও তার ছেলে নাদিম(৬)।
গত
৯ জানুয়ারী শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির
বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া ও এলোপাতাড়ি ভাবে চালিয়ে
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের উপর উল্টে পড়ে। দূঘর্টনার পরপরই
বাসে আগুন লেগে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪ জন মারা যায় এবং আহত হয় ২৬ জন বাস
যাত্রী।
ওই সময়ে মোটরসাইকেলে দাউদকান্দি উপজেলা গৌরীপুর ইউনিয়নের
পেন্নাই পলুদ্দিপাড় গ্রামের মো. শামীম তার ৬ বছরের ছেলে নাদিমকে নিয়ে
বানিয়াপাড়া দরবার শরীফে জুম্মা নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক ওই মুহুর্তে
বানিয়াপাড়ায় দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান পিতা-পুত্র।
এছাড়াও বাস যাত্রী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও থানার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে হোসাইন (২) ও
চল্লিশোর্ধ্ব অজ্ঞাত এক নারী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।
যাত্রীরা জানান,
বাসটি প্রথমে খুব ধীরে ধীরে চলছিল। পরে হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে দেয়। বাসটি
তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, এতে
অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে সেটি গিয়ে মোটরসাইকেলের উপর উঠে
যায়। দূর্ঘটনার পরপরই বাসে আগুন লেগে যায়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা
হচ্ছে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক থেকে আগুনের
সূত্রপাত হয়েছে। এতে পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। এতে চারজন দগ্ধ হয়ে মারা যায়।
নিহতের মধ্যে ২ জন শিশু, ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা রয়েছে।
মর্মান্তিক
সড়ক দূর্ঘটনায় একইসাথে পিতা-পুত্রের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের
ছায়া। পরিবার আত্মীয় স্বজনের কাঁন্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আকাশ। এদিকে একইসাথে
পিতা-পুত্রের জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
