কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো শুরু হলো
দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ইন
সায়েন্সেস' শীর্ষক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) ময়নামতি অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়।
সম্মেলনের
প্রথম দিনে ১৪টি ভেন্যুতে ৬টি কি-নোট সেশন, ১৩ টি টেকনিক্যাল সেশন এবং ১টি
পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্বিতীয় দিনে ৯টি ভেন্যুতে ৪ টি কি-নোট
সেশন এবং ৯টি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সম্মেলনের জন্য মোট ২৭০
টি অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১৮৪ টি নির্বাচিত হয়েছে।
অ্যাবস্ট্রাক্টগুলোর মধ্যে ১৪৯ টি মৌখিক প্রেজেন্টেশন এবং ৩৫ টি পোস্টার
প্রেজেন্টেশন হবে। এছাড়াও সম্মেলনে ১৩ টি প্রবন্ধ উপস্থিত হবে এবং ২টি
প্লেনারি টক অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন
অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে
ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ
হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.
মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান ।
এছাড়াও
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিদুল ইসলাম,
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসাইন
উদ্দিন শেখর এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
অধ্যাপক ড. পায়ের আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নোয়াখালী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল
বলেন, "আমরা সবাই নিজ নিজ বিষয়ের গণ্ডির মধ্যেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ
করি এবং আন্তঃবিষয়ক শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায়ই উপেক্ষা করি। আমরা মনে করি,
রসায়ন শুধু রসায়নের জন্য, বায়োকেমিস্ট্রি বা অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি শুধু
নিজ নিজ বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হতে হবে। এখন
সময় এসেছে বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময়ভাবে কাজ করার।
তিনি আরও বলেন,
"কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই সেমিনার বৈশ্বিক সমস্যা সমাধান নিয়ে
ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ জন্য শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই চলবে
না, প্রযুক্তি উদ্ভাবনও করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা কখনোই অটোপাইলট নয়, বরং এটি একটি কো-পাইলট। তাই শিক্ষার্থীদের
এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং জানতে হবে, কোথায়, কখন এবং
কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা উচিত এবং এআই কিভাবে গবেষণায় কাজে
লাগাতে পারি সেটাও জানা দরকার।"
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
সোলায়মান বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের এই দুই দিনব্যাপী
গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সমাবেশের সূচনা হতে যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য একটি
গর্বের মুহূর্ত। এই সম্মেলনের কাঠামো ও পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদকে
জ্ঞান সৃষ্টির সুযোগ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল
পৃথিবীতে বসবাস করছি, যেখানে জটিল বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো নতুন
চিন্তা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার দাবি জানায়।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে
বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আর বিচ্ছিন্নকোনো সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধনেই। এই
সম্মেলনটি ধারণা বিনিময়, গবেষণা উপস্থাপন ও ভাগাভাগি করা এবং ঐতিহ্যগত
বিষয়ভিত্তিক সীমা অতিক্রম করে অর্থবহ একাডেমিক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে
তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত
গবেষণার উন্নয়ন ও প্রসারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক
সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচিগুলো কেবল একাডেমিক
লক্ষ্যকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ গবেষণা উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বকেও
অনুপ্রাণিত করবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের
আয়োজন করেছে, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতির
নির্দেশ করে। এখানে উপস্থিত বিভিন্ন গবেষক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাক্তি এবং
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নির্দেশ করে আমাদের একাডেমিক তাৎপর্য । আমি
নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই কনফারেন্সে স্কলার এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের
মাধ্যমে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে, যা বহুমুখী এবং বেশ্বিক নানা সমস্যার
সমাধানের চেষ্টা করবে। ল্যান্ডমার্ক ইভেন্ট শুধু আমাদের কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নতি না, এটা আরো নতুন প্রজন্মদের এবং নতুন
গবেষকদের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ডা. মোঃ হায়দার আলী বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম দিন
থেকেই আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু শিক্ষাদানের
কেন্দ্র নয় বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনের এক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এই
লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ইতোমধ্যে দুইটি
আন্তর্জাতিক রিসার্চ আয়োজন করেছে এবং সম্প্রতি কলা অনুষদ আরও একটি
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন করেছে। এসব উদ্যোগ আমাদের গবেষণাভিত্তিক
শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তিনি
আরও বলেন, আমরা অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের প্রজেক্ট ও থিসিস গবেষকদের
জন্য বিশেষ গবেষণা বৃত্তি চালু করেছি। চলতি বছর আমরা পিএইচডি প্রোগ্রামও
চালু করার চেষ্টা করছি। এই মাস থেকেই প্রায় ১৩ জন পিএইচডি গবেষক তাঁদের
গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে আমরা আশা রাখছি। তাঁদের জন্য
পর্যাপ্ত পরিমাণ গবেষণা বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও
আমরা দিচ্ছি।
সম্মেলনের সভাপতি এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. প্রদীপ
দেবনাথ বলেন, আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের লক্ষ্য হলো দেশ ও বিদেশের গবেষক ও
শিক্ষিত ব্যক্তিদের একসাথে হওয়া। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল ও বৈশ্বিক
চ্যালেঞ্জগুলোর সমস্যা সমধান করা। এই কনফারেন্স গবেষক ও শিক্ষানবীস গবেষক
অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন আইডিয়া আবিস্কার করবে। দেশি বিদেশি গবেষকদের সাথে
সম্পর্ক স্থাপন করবে। যা সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।
