রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২
দাম বাড়তি সরু চালে, স্বস্তি নেই বাজার ভরা সবজিতেও
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম |



পুরনো চাল থাকা অবস্থায় বাজারে এসেছে ‘ব্রি-২৮’ চাল। এতে মোটা চালের দাম না বাড়লেও চিকন বা সরু চালের কেজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত।
নিত্যপণ্যের বাজারে সুখবর নেই শাকসব্জিতেও। শীতকালীন সবজির সরবরাহ ঠিকঠাক থাকলেও দাম পড়েনি প্রত্যাশার অনুপাতে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ী বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
এসব বাজারে এক কেজি দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়, যা সপ্তাহ খানেক আগেও ৮৫ টাকায় কেনা যেত।
শান্তিনগরের মদিনা রাইস ট্রেডার্সের মালিক আলম মিয়া বলেন, ‘‘বাজারে ভরপুর চাল আছে; ট্র্রাকে-ট্রাকে নিতে পারবেন। তারপরও দেশি ও ভারতীয় নাজিরশাইলের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ টাকা বাড়ছে মোকামে।”
বিক্রেতারা বলছেন, বড় বড় বিক্রেতা বা কোম্পানির চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ছোট ছোট ব্যবসায়ী কিংবা চাতালে প্রস্তুত করা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা।
চিকন চালের দাম বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা শরিয়তপুর ট্রেডার্সের মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘‘মিনিকেটের দাম বাড়ছে। এখন ইন্ডিয়ান চাল তো আমদানি বন্ধ শুনছি, তাই মোকাম দাম বাড়ায়া দিছে।’’
এ বাজারে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়। অন্যদিকে আগে আমদানি করা ভারতীয় নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা।
যাত্রাবাড়ীর হানিফস রাইস ট্রেডার্সের পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, তারা দেশি একটি কোম্পানির মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি করছেন ৭৫ টাকায়, যা গেল সপ্তাহে ৭০ টাকা ছিল।
চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই মন্তব্য করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘এখন বাজারে নতুন ও পুরান- দুই ধরনের চালই আছে। পুরানটার দাম একটু বেশি।
‘‘এখন বাজারে চালের দাম একই থাকার কাথা। নতুনটার দাম ২ থেকে ৩ টাকা কম হওয়ার কথা পুরানটার চাইতে।”
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসে আমন ধানের চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে পুরনো চাল রয়েছে, তবে শেষ হওয়ার পথে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঢাকার বাজারে বিভিন্ন জেলার মিলারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ চাল আসে, তার চেয়ে বেশি আসে করপোরেট কোম্পানি থেকে।
গত এক দশকে চার-পাচটি বড় কোম্পানি চালের বাজারে প্রবেশ করেছে। এসব কোম্পানি ৫ থেকে ৫০ কেজির বস্তা বাজারজাত করছে।
যাত্রাবাড়ি চালের আড়তের যমুনা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন শাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘এখন এক গাড়ি (৩০০ বস্তা) চাল কিনলে সাশ্রয় হবে। কিন্তু সবাই তো একসঙ্গে এক জাতের এত চাল কিনতে পারবে না। যারা কিনছে, তারা ব্যবসা করছে। আমাগো মতো ব্যবসায়ীর হাতে কিছুই নাই।’’
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কেজি ১ টাকা মুনাফা হলেই অনেক সময় চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন তিনি।
মোট চাল নামে বাজারে থাকা ‘আটাশ’ চালের দাম খুব একটা বাড়েনি। নতুন চাল আসায় তা পুরনো চালের চেয়ে কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি করছেন দোকানিরা।
সেগুনবাগিচার বিক্রেতা আলম মিয়া বলেন, আঠাইশ নতুনটা ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা এবং পুরনোটা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেড়েছে পাইজাম জাতীয় চালেরও। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১ টাকা বেড়ে শুক্রবার ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল সেগুনবাগিচায়।
‘আটাশ’ বা ‘ব্রি-২৮’ জাতের আরেকটি চাল হচ্ছে গুটি স্বর্ণা। শুক্রবার এ চাল আলম মিয়া বিক্রি করছিলেন ৬০ টাকা কেজি দরে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা।
চালের দাম বাড়ার তথ্য রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের’ (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের প্রতিবেদনেও।
শুক্রবার টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরির বিভিন্ন বাজারে মোটা চালের কেজি ছিল ৬০, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা।
বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কথা শোনা না গেলেও শীতকালীন সবজির দাম কমেনি। বরং টমেটো, সালগম, সিম ও বেগুনের মতো কিছু সবজির দাম বেড়ে গেছে।
সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি সালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা।
আগের সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি টমেটোর কেজি ১০০ টাকায় ঠেকেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা নূর ইসলাম।
মৌসুমের শুরুতে টমেটোর দর ১২০ টাকায় উঠেছিল, দুই সপ্তাহ পর তা নেমেছিল ৭০-৮০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ীতে আগের মতো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বড় গোল বেগুনের কেজি ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা।
বিচিযুক্ত সিম আগের মতো ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও এ বাজারে অন্যান্য সিমের দাম বেড়েছে।
আগের সপ্তাহে ৩০ টাকা কেজিতে নেমে যাওয়া বিচি ছাড়া সিম শুক্রবার কিনতে হয় ৪০ টাকায়।
তবে গত সপ্তাহের মতো করোল্লার কেজি ৮০ টাকা, একেকটি ফুলকপি ২০ টাকা ও পেঁয়াজ পাতার আঁটি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন যাত্রাবাড়ীর বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘‘ডিম তো সবচেয়ে কম দামে ছিল। এখন আগের জায়গায় যাচ্ছে; এক ডজন ১২০ টাকা।’’

 












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
সবাই সচেতন হলে এদেশে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না
আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন কুমিল্লার দুইজন, বাতিল ১
কাগজে-কলমে ওষুধ থাকলেও বাস্তবে নেই
উদ্বোধন বেবিস্টেন্ডে চাঁদা বন্ধ হবে- দ্বীন মোহাম্মাদ
কুমিল্লা দারুস্সুন্নাত দ্বীনিয়া একাডেমীর অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
‘দুর্ঘটনার আগে বাস চালকের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয়’
তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে হাজী ইয়াছিনের সেমিনার
দগ্ধ ৪ জনের মৃত্যু
বুড়িচংয়ে নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা
বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২