দেশে
এলপি গ্যাসের কোনো সংকট না থাকার তথ্য দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়
খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যারা বেশি দাম নিচ্ছে তাদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে জ্বালানি
বিভাগে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) অপারেটর ও এলপিজি ওনার্স
অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে
পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাতে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধরা হয়।
বৈঠক
শেষে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (এলওএবি) পৃথক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কিছু কারণে সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন হলেও বর্তমান মজুত
সন্তোষজনক।
সংগঠনটির নেতারাও খুচরা পর্যায়ে সংকট সৃষ্টি করে যারা চড়া দাম নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বৈঠকে দাবি জানিয়েছেন।
সরবরাহ
সংকটের কথা বলে গত কয়েকদিন থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত
দামের চেয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বেশি দাম দিয়েও ক্রেতারা অনেক স্থানে এলপিজির সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে
অভিযোগ।
এমন প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল
কবির খানের নির্দেশনায় এলপিজি বাজার স্বাভাবিক রাখতে রোববার বিকালে
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনই
বিইআরসি গৃহস্থালীর রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম
জানুয়ারি মাসের জন্য ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে তা
বর্তমান খুচরা দামের চেয়ে অনেক কম। একই পরিমাণ গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে এখন
ক্রেতাদের ১৯০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
বৈঠকের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এলপিজি সংকট নিয়ে আলোচনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।
বৈঠকে
জানানো হয়, দেশে বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে
স্থানীয় পর্যায়ের কিছু খুচরা বিক্রেতা ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট
তৈরি করছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজ সংকট এবং কিছু
কার্গো জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি পর্যায়ে সাময়িক চাপ তৈরি
হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে এলপিজি
আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। পরের মাস ডিসেম্বরেই আমদানি
বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বাড়লেও বাজারে
সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
এলপিজি অ্যাসোসিয়েশন ও
আমদানিকাররা দাবি করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি
মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই খুচরা
বিক্রেতারা আগাম সংকট তৈরি করেছে।
বৈঠকে বলা হয়, গ্রিন ফুয়েল হিসেবে
এলপিজির ব্যবহার উৎসাহিত করতে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এলসি
প্রক্রিয়া সহজ করা, ভ্যাট কমানোর বিষয়ে দাবি জানায়। এগুলো সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার বৈঠকে বলা
হয়েছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুব দ্রুত এলপিজির বাজার ও দাম
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বৈঠকে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দাবি
করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এলওএবি এর সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৈঠকে সংকটের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
আমাদের সক্ষমতা রয়েছে সরকারের সহযোগিতা পেলে এলপিজি আমদানির জটিলতা কমবে।
বাংলাদেশে এলপিজি আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে
হবে। বিশেষ করে বিইআরসির অনুমোদন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা জরুরি।
“মন্ত্রণালয়ের
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলো যদি সময়মতো সম্পন্ন করা যায়,
তাহলে ভবিষ্যতে এলপিজি খাতে কোনো সংকট দেখা দেবে না।”
বৈঠক শেষে সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এলওএবি বলেছে, শীতের জন্য জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়া, ইউরোপে
শীতকালে জ্বালানি ব্যবহার বেড়ে যাওয়াসহ কিছু কারণে সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন
ঘটেছে। এরপরও বর্তমান মজুদ সন্তোষজনক।
বৈঠকে আমদানি পর্যায়ে কোনো সীমা
থাকবে না আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে বলা হয়, এরপরও কিছু খুচরা বিক্রেতা
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা
হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এমন
প্রেক্ষাপটে সংগঠনের তরফে অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রিকারী খুচরা
বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের তাগিদও দেওয়া হয়।
