ভেনেজুয়েলার
উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরে বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী, পারমাণবিক শক্তিচালিত
ডুবোজাহাজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানসহ ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তোলার পর
অবশেষে দেশটিতে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প
জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বড় ধরনের
হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে উড়িয়ে
(হেলিকপ্টারে করে) দেশটির বাইরে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগগুলোতে
বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে
মার্কিন অভিযানের কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন যে ‘সমস্যাগুলো’ তুলে ধরেছে
রয়টার্সের অবলম্বনের তা নিচে তুলে ধরা হল।
অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন কংগ্রেসকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে
‘সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত আছে। তারা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক
সরবরাহে মাদুরো একটি প্রধান ভূমিকা পালন করছেন যা আমেরিকানদের হত্যা করছে।
মাদুরো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন কারাগারে উৎপত্তি
হওয়া ভেনেজুয়েলান অপরাধী গোষ্ঠী ‘ৎৰেন দে আরাগুয়া’ ও মাদক চক্রের সঙ্গে
সম্পর্ক থাকা ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের বোঝাতে শিথিলভাবে সংজ্ঞায়িত নাম
‘কারতেল দে লোস সোলেস’-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে উদ্দেশে পাঠানো কোকেইনের ট্রানজিট
দেশ হল ভেনেজুয়েলা। আর দেশটি মাদক পাচারকারী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ
আস্তানা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ওভারডোজের ঘটনার জন্য দায়ী
ফেন্টানলের উৎস ভেনেজুয়েলা নয়।
ট্রাম্পের মনরো মতবাদ
চলতি মাসে
ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি যুক্তি দেন যে
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ শতকের মনরো মতবাদ পুনরুজ্জীবিত করা উচিত। এই মতবাদে
ঘোষণা করা হয়েছে, পশ্চিম গোলার্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব অঞ্চল’।
এই
নিরাপত্তা কৌশলে ট্রাম্পের বিদেশ নীতির অগ্রাধিকারের শীর্ষে আছে এই
গোলার্ধটি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সামরিক স্থাপনার মতো
সম্পদে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেইজিংকে আটকানোর উপায় হচ্ছে এই অঞ্চলে মার্কিন
প্রভাব।
জ্বালানি তেল
মাদুরো বলেছেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল চায়।
যা এখন প্রধানত চীনের কাছে বিক্রি করা হয়। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি
প্রমাণিত তেলের মজুদ আছে। গত মাসে বিশ্লেষকরা বলেছেন, মাদুরোর জন্য তেল
হতে পারে ট্রাম্পের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে একটি মূল্যবান উপায়।
