রণবীর ঘোষ কিংকর।
কম
খরচে অধিক লাভজনক এবং স্বল্প মেয়াদী ফসল হিসেবে পরিচিত শরীষা চাষে আগ্রহ
কমছে কুমিল্লার কৃষকদের। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও জেলায়
পাঁচশ হেক্টরেরও বেশি জমিতে কমেছে শরীষার আবাদ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা
গেছে- গত বছর কুমিল্লা জেলায় ১৪ হাজার ৩৫৭ হেক্টর জমিতে শরীষার চাষ হলেও
চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮২৭ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরের
ব্যবধানে প্রায় ৫৩০ হেক্টর জমিতে শরীষার আবাদ কমেছে।
এবছর শরীষার আবাদ
কমেছে জেলার মুরাদনগর উপজেলায় ২৩১ হেক্টর, হোমনা উপজেলায় ২৩৪ হেক্টর, বরুড়া
উপজেলায় ৯৮ হেক্টর, নাঙ্গরকোটে ৬০ হেক্টর, বুড়িচং উপজেলায় ৪৫ হেক্টর,
তিতাস উপজেলায় ৩৬ হেক্টর, মেঘনা উপজেলায় ৩৩ হেক্টর, চান্দিনা উপজেলায় ২০
হেক্টর, লাইমাই উপজেলায় ২০ হেক্টর, মনোহরগঞ্জে ১৩ হেক্টর। তবে দেবীদ্বার,
আদর্শ সদর, ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রামে কিছুটা বেড়েছে
শরীষার আবাদ।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি শীত মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া
অনুকূলে থাকায় এবং বাজারে শীতকালীন সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বেশি লাভের
আশায় সবজি চাষে ঝুঁকেছেন। এর ফলে শরীষা চাষ কিছুটা কমেছে।
সবজিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা:
কুমিল্লার
দেবীদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের বলেন- “শরীষা চাষে
খরচ কম, কিন্তু এবার ফুলকপি, বাঁধাকপি আর টমেটোর দাম ভালো। তাই ঝুঁকি নিয়ে
সবজি চাষ করেছি। শরীষার দাম ভালো থাকলেও সবজির তুলনায় লাভ তুলনামূলক কম।”
চান্দিনা
উপজেলার ছায়কোট-তুলাতলী গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান, “শরীষায় পানি আর
শ্রমিক কম লাগে ঠিকই, কিন্তু এখন কৃষকরা দ্রুত বেশি লাভ চায়। সবজি তুলতে
পারলে প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করা যায়, সে কারণে শরীষা থেকে মুখ ফিরিয়ে
নিচ্ছে অনেকে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীষা ভিটামিন ই, ভিটামিন কে,
ক্যালসিয়াম ও আয়রণে সমৃদ্ধ একটি স্বাস্থ্যসম্মত তেলবীজ ফসল। শরীষার তেল
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
পাশাপাশি স্বল্প সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে এটি কৃষকের জন্য নিরাপদ
ফসল হিসেবেই বিবেচিত।
