নিজস্ব
প্রতিবেদক।। আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির কোনো প্রভাবই পড়েনি
কুমিল্লায়। সকাল থেকেই নগরজীবন ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চলাচল ছিল
নির্বিঘ্ন। সকালে দূরপাল্লার বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কম
থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। পণ্যবাহী ট্রাক,
কাভার্ড ভ্যান ও পরিবহন চলাচলও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মহাসড়কের কোথাও
আওয়ামী লীগের তৎপরতা দেখা না গেলেও খণ্ড খণ্ডভাবে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন
কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। তবে এসব কর্মীরা মূলত রাস্তার মোড় বা নিজ নিজ
এলাকায় সীমিত আকারে অবস্থান নেন। সারাদিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা
সংঘর্ষের খবর ছিল না কুমিল্লায়।
লকডাউন ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা
ঠেকাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
ব্যবস্থা। জেলার সড়ক, মহাসড়ক ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মোতায়েন করা
হয় ২৩শ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবের টহল ছিল সার্বক্ষণিক।
সকাল থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট, যেখানে
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার
নাজির আহমেদ খান জানান, লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসন সম্ভাব্য
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে অবস্থান করেন।
এদিকে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যও চলেছে প্রায় স্বাভাবিকভাবে। যদিও সকালে
স্কুল-কলেজমুখী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম, তবে নগরীর
দোকানপাট, মার্কেট, ব্যাংক ও অফিস আদালত পাড়া ছিল অন্যান্য দিনের মতো
স্বাভাবিক।
লকডাউনের সমর্থনে কোথাও কোনো মিছিল, সমাবেশ বা অবরোধ
কর্মসূচি দেখা যায়নি। তবে নগরীর টাউন হল এলাকা ও কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন
স্থানে অবস্থান নেয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ইসলামী
রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন কুমিল্লা টাউন
হল মাঠে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরসহ ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ
বলেন, সৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার দোসররা দেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে।
তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এসব
ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমরা রাজপথে আছি।” তারা আরও দাবি করেন, দেশের
বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম
আরও বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, নগরীর বিভিন্ন মোড়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী
সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে, তবে তারা কোনো ধরনের
কর্মসূচি পালন করেননি।
