ব্যাপক
আয়োজন ও পাঁচ দিনের আনন্দ উৎসবকে অতীত করে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে
শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে কুমিল্লার ৭৯৭টি পূজা মন্ডপের
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এ মহোৎসবের পরিসমাপ্তি। শান্তির
বার্তা নিয়ে আগামী বছর মা দুর্গা আবারও মর্তে ফিরে আসবেন এমনটাই বিশ^াস
করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে
কুমিল্লা জেলা জুড়ে প্রতিটি পূজা মন্ডপে দেখা যায় আবেগঘন দৃশ্য।
বৃহস্পতিবার সকালে দেবীর দশমীর বিহিত পূজা শেষে শাস্ত্রীয় দর্পন বিসজনে শেষ
হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। নারীরা মন্দিরে মন্দিরে মাকে
সিঁদুর পড়ানো এবং নিজেরা মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু
হয়ে দেবী বিসর্জন। অশ্রæসিক্ত নয়নে ভক্তরা তাদের মাতৃরূপী প্রিয় দেবী
দুর্গাকে বিদায় জানান। ঢাক-ঢোলের তালে তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত
হয়ে উঠে বিসর্জন স্থল।
বিসর্জনের সময় অনেক ভক্তদের চোখে ছিল অশ্রæ,
হৃদয়ে ছিল শ‚ন্যতা। তবুও বিশ্বাসের জায়গায় অটল ছিলেন সবাই "আসছে বছর আবার
আসবেন মা।" দেবী দুর্গার আগমন যেমন ছিল আনন্দের বার্তা, তেমনি তাঁর
প্রস্থানও ছড়িয়ে দিল শান্তি, সহমর্মিতা ও শুভেচ্ছার বার্তা।
বাংলাদেশ
পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ৭৯৭টি প‚জা
মÐপে শান্তিপ‚র্ণভাবে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ
উপস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত¡াবধানে উৎসব ছিল নির্বিঘœ।
স্থানীয়
এক পূজার আয়োজকরা বলেন- প্রতিবারের মতো এবারও দেবী মায়ের আগমনে চারপাশ
আলোকিত হয়ে উঠেছিল। প্রতিমা বিসর্জনের সময় মনে হচ্ছে যেন মায়ের এক সন্তান
হয়ে বিদায় দিচ্ছি তাঁকে। এমন অনুভ‚তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’ তারা আশা
করেন- মা দুর্গা আগামী বছর আবারও ফিরে আসবেন মর্ত্যলোকে, শান্তি, শক্তি ও
শুভবোধের বার্তা নিয়ে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- মানুষের মনের
আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই ম‚লত বিজয়া
দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের
উদ্দেশ্য।
এর আগে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে
পাঁচ দিন ব্যাপী শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। কুমিল্লার
প্রতিটি পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। সনাতন
ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের
কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার
গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
