গত৭
বছরে ৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বিলীন, অভিযানের আগেই ‘তথ্য ফাঁস’,
প্রশাসন-রাজনীতিক-প্রভাবশালী জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নেতাদের
বিরুদ্ধে। কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলি জমি ড্রেজার মেশিনের
নিচে ধ্বংস হচ্ছে।
প্রশাসনের শত শত অভিযান, ড্রেজার ভাঙচুর আর অর্ধ
কোটি টাকা জরিমানার পরও চলছেই এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ
এটি শুধু ব্যবসা নয়, বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর এক
সিন্ডিকেট।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া মাটি ও বালু উত্তোলনের
শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা। কিন্তু বাস্তবে
এখনো কাউকে এ শাস্তি ভোগ করতে দেখা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, গত কয়েক মাসে ৩০০টির বেশি ড্রেজার
ধ্বংস ও ৫০ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু অপরাধীদের হাতে-নাতে ধরা
না পড়ায় মামলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের আগেই ড্রেজার মালিকরা খবর পেয়ে যায়। ফলে প্রশাসনের অভিযানও ব্যর্থ হয়ে যায়। এবিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা
কৃষি
অফিস জানায়, ২০১৮ সালে আবাদি জমি: ২৪,২৯৩ হেক্টর, ২০২৫ সালে অবশিষ্ট:
১৭,২৯৩ হেক্টর, অর্থাৎ ৭ বছরে বিলীন হয়েছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর (১৭.৩
হাজার একর) জমি। প্রতি বছর গড়ে ২,৫০০ একরেরও বেশি জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে
যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ২০০ গ্রামের ৭৬টি স্থানে চলছে
ড্রেজারের কার্যক্রম। বি-চাপিতলা, এলখাল কোরবানপুর,কামাল্লা সোনাকান্দা,
ইউসুফনগর, যোগেরখিল ও কামাল্লা গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

