রোববার ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কুমিল্লায় ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ড্রেজার সিন্ডিকেট
তরিকুল ইসলাম তরুন,
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:১৭ এএম আপডেট: ০৩.০৯.২০২৫ ১:৩৩ এএম |





  কুমিল্লায় ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ড্রেজার সিন্ডিকেটগত৭ বছরে ৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বিলীন, অভিযানের আগেই ‘তথ্য ফাঁস’, প্রশাসন-রাজনীতিক-প্রভাবশালী জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নেতাদের বিরুদ্ধে। কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলি জমি ড্রেজার মেশিনের নিচে ধ্বংস হচ্ছে। 
প্রশাসনের শত শত অভিযান, ড্রেজার ভাঙচুর আর অর্ধ কোটি টাকা জরিমানার পরও চলছেই এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ এটি শুধু ব্যবসা নয়, বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর এক সিন্ডিকেট।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া মাটি ও বালু উত্তোলনের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা। কিন্তু বাস্তবে এখনো কাউকে এ শাস্তি ভোগ করতে দেখা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, গত কয়েক মাসে ৩০০টির বেশি ড্রেজার ধ্বংস ও ৫০ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু অপরাধীদের হাতে-নাতে ধরা না পড়ায় মামলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের আগেই ড্রেজার মালিকরা খবর পেয়ে যায়। ফলে প্রশাসনের অভিযানও ব্যর্থ হয়ে যায়। এবিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা 
কৃষি অফিস জানায়, ২০১৮ সালে আবাদি জমি: ২৪,২৯৩ হেক্টর, ২০২৫ সালে অবশিষ্ট: ১৭,২৯৩ হেক্টর, অর্থাৎ ৭ বছরে বিলীন হয়েছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর (১৭.৩ হাজার একর) জমি। প্রতি বছর গড়ে ২,৫০০ একরেরও বেশি জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ২০০ গ্রামের ৭৬টি স্থানে চলছে ড্রেজারের কার্যক্রম। বি-চাপিতলা, এলখাল কোরবানপুর,কামাল্লা সোনাকান্দা, ইউসুফনগর, যোগেরখিল ও কামাল্লা গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

কৃষক জামাল হোসেন বলেন, ড্রেজারের পাইপ বসানোর পর আমার এক বিঘা জমি এক রাতেই ধসে পড়ে। ফসলের স্বপ্ন দেখার সুযোগই পেলাম না।
  কুমিল্লায় ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ড্রেজার সিন্ডিকেট
কৃষক হিরন মিয়ার অভিযোগ, জমি চাষ করতে যাই, দেখি সব গর্ত আর ধস। বাধ্য হয়ে জমি অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হলো।
কৃষক কামাল উদ্দিন ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, দিনে প্রশাসন আসে, ছবি তোলে, মেশিন ভাঙে। রাতে আবার আগের মতো ড্রেজার চলে। মনে হয় সবাই মিলে খেলায় মেতেছে।
ড্রেজার ব্যবসায়ী হারুন মুন্সীর স্বীকারোক্তি, আগে প্রতি প্রজেক্টে দেড়-দুই লাখ টাকা লাভ হতো। এখন মেশিন বসালেই রাজনৈতিক নেতা, নায়েব সাব, সাংবাদিকসহ সবাইকে টাকা দিতে হয়। না হলে ব্যবসা চলে না। এ বক্তব্যই প্রমাণ করে, প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ ছাড়া এত বড় সিন্ডিকেট চলতে পারে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, ড্রেজার দিয়ে জমি নষ্ট করায় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। নিবিড় কৃষি করে লাভ নেই যদি জমি টিকে না থাকে। জমি বাঁচাতে হলে ড্রেজার বন্ধ করতেই হবে।
স্বভাবতই প্রশ্ন, অভিযান হয়, জরিমানা হয়, কিন্তু অপরাধীরা ধরা পড়ে না। তাহলে কি প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের আঁতাতেই মুরাদনগরের ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ড্রেজার সিন্ডিকেট? কৃষকের ঘাম ও মাটির গন্ধ কি তবে ইতিহাস হয়ে যাবে ঠিক তেমনি কুমিল্লার চান্দিনা,দেবিদ্বার, বি পাড়া,বরুড়া, বুড়িচং উপজেলার মধ্যে ফসলি জমি কেটে বিনিষ্ট করে যাচ্ছে মাটি খেকুরা।















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের ভাগ্য বদলাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
‘নিখোঁজ নয়; ছিলেন আত্মগোপনে’ ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেই শিবির নেতা
শিবির নেতা জিসানকে বহিষ্কার
কুমিল্লার শিবের বাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ১
কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব
দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো
কুমিল্লা সীমান্তে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা
কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
বরুড়ায় রাকিব হত্যা প্রধান আসামি ছোটন ঢাকায় গ্রেপ্তার
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২