কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা
ভেঙে তিনটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে
জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর মালপাড়া ইউনিয়নের ৫০ নম্বর অলুয়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৭ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে ২৮ জুন ভোর সাড়ে
৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে৷ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ জুন
বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শেষে অফিস সহকারী মো. শাখাওয়াত হোসেন অফিস
কক্ষ তালাবদ্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরে বিদ্যালয়ের মাঠে এসে তিনি
প্রধান ফটকের তালা ভাঙা ও ফটক খোলা দেখতে পান। পরে অফিস কক্ষের ডান পাশের
দরজার তালা ও হ্যাসবোল্ট ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক মোসাম্মৎ নুরুননাহার ফেরদৌসকে জানান। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে
প্রধান শিক্ষক অফিস কক্ষে প্রবেশ করে দেখেন, তাঁর ব্যবহৃত আলমারির তালা
ভেঙে সেখানে রাখা ডেল কোম্পানির দুটি ও ওয়ালটন কোম্পানির একটি-মোট তিনটি
ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেছে। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য
ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হয়। কোনো সমাধান না পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী
শিক্ষক মো. শাহজালাল ভূঁইয়া ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অজ্ঞাত চোরদের বিরুদ্ধে
লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
মোসাম্মৎ নুরুননাহার ফেরদৌস বলেন, ‘খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে বিদ্যালয়ে
পৌঁছে পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
বিষয়টি জানাই। পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ
করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা হালিমা পারভীন বলেন,
যেসব বিদ্যালয়ে দপ্তরি রয়েছেন, তাঁদের রাতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করে
বিদ্যালয় ও এর সরকারি মালামাল পাহারা দেওয়া এবং সংরক্ষণের নির্দেশনা রয়েছে।
আর যেসব বিদ্যালয়ে দপ্তরি নেই, সেসব বিদ্যালয়ের সরকারি মালামাল প্রধান
শিক্ষকের হেফাজতে রাখতে হবে। প্রধান শিক্ষকের বাসা বিদ্যালয় থেকে দূরে হলে,
বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী যে শিক্ষকের বাসা রয়েছে, তাঁর হেফাজতে মালামাল রাখার
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কারও গাফিলতির কারণে সরকারি সম্পদ
চুরির কোনো সুযোগ নেই। যদি দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যালয়ের সরকারি
মালামাল চুরি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজস্ব অর্থায়নে সেই ক্ষতি
পূরণ করে প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দিতে হবে৷ ঘটনার পর থেকে এলাকায়
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে
বলে জানা গেছে।
