নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে
প্রতিদিন উৎপাদিত সংক্রামক জীবাণুবাহী মেডিকেল বর্জ্য নিরাপদে পরিশোধনের
লক্ষ্যে ইনসিনারেটর প্লান্ট উদ্বোধন করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন।
বুধবার বিকেলে নগরীর শহরতলীর ঝাঁকুনিপাড়া ডাম্পিং স্টেশনে স্থাপিত এ
প্লান্টের উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনকালে
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংক্রামক জীবাণুবাহী
মেডিকেল বর্জ্য নিয়ে কুমিল্লাবাসীর অভিযোগ ছিল। এসব বর্জ্যের কারণে
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছিল। সেই ঝুঁকি দূর করতেই ডাম্পিং
স্টেশনে ইনসিনারেটর প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।এ প্লান্টে সিরিঞ্জ, সুঁই,
মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক মেডিকেল বর্জ্য
পরিবেশসম্মত উপায়ে পোড়িয়ে পরিশোধন করা হবে। প্লান্ট পরিচালনা ও বর্জ্য
পরিশোধনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে বর্জ্য অপসারণকারী প্রতিষ্ঠান
কুমিল্লা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট।
সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
বিভাগের তথ্য মতে , কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে উৎপাদন
হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টন মেডিকেল বর্জ্য। যার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই সংক্রামক
জীবাণুবাহী। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এসব বর্জ্য সংরক্ষণ,
অপসারণ ও পরিশোধনে কোন নিয়মের তোয়াক্কাই করছে না হাসপাতালগুলো। তবে এ
প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালগুলোতে কালার বিন
ব্যবহারে ইতোমধ্যেই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবা
প্রতিষ্ঠানের চিঠি দেয়া হয়েছে। বিষয়ে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।
তারপরেও জৈব, প্লাস্টিক এবং মেডিকেল বর্জ্য পৃথকীকরণে কালার বিল ব্যবহার না
করলে সসকৃষ্ট হাসপাতালে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সিটি কর্পোরেশন।
কারণ
সাধারণ ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে হাসপাতালের সিরিঞ্জ, সুঁই, রক্তমাখা তুলা,
এমনকি মানবদেহের নানা ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য। মানা হচ্ছে না পৃথক কোন কালার
কোড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কঠিন বর্জ্য থেকে হেপাটাইটিস এ, বি, ই, যক্ষা,
চর্ম ও যৌন রোগের জীবানু ছড়িয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে জনস্বাস্থ্য!
কুমিল্লা
সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন
বলেন, দীর্ঘদিনের সংকট সংক্রামক জীবাণুবাহী মেডিকেল বর্জ্য পোড়াতে
ইনসিনারেটর প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এই প্লান্টে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টন
মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো সম্ভব। একই ডালবিনি জৈব প্লাস্টিক এবং মেডিকেল
বর্জ্য ফেলে আসা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালার বিন ব্যবহারে
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা বেশ কয়েকবার বসেছি প্রয়োজনে
মাইকিং করে আবারও নির্দেশনা দেওয়া হবে। কারণ কালার বিন ব্যবহারের মাধ্যমে
সংক্রামক জীবানুবাহী বর্জ্যের পরিমাণ কমবে। কারণ জৈব, প্লাস্টিক এবং
মেডিকেল বর্জ্যগুলো পৃথকীকরণ করা হলে শুধুমাত্র মেডিকেল বর্জ্যগুলোই
ইনসিনারেটর প্লান্টে পরিশোধন করলে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ঝুঁকি কমে
আসবে।
