নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষা। এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলার ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫ হাজার ৭শ ২ জন পরীক্ষায় অংশ নিবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লার অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ১৯৩টি কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৫ হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরন করেছেন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এ বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি। বোর্ডে ১ লাখ ২২ হাজার পরীক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেছিলো।
কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা সকল কেন্দ্রের চার পাশে ১৪৪ ধারা জারি রাখার জন্য প্রশাসনকে বলেছি। সকল কেন্দ্রে সিসিক্যামেরা চালু রাকার জন্য বলেছি। আমরা যেন সব সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরো জানান, বৈরী আবহাওয়ার জন্যও সকল কেন্দ্রে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। মোমবাতি, চার্জলাইট বা সোলার চালু রাখার জন্য বলা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ জানান, ২০২৬ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার জন্য সকল কেন্দ্রগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা নকল ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষা উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। শুধু পরীক্ষার্থীরা নয়, পরীক্ষকদেরকেও থাকতে হবে। আমাদের যেসব ভিজিলেন্স টিম থাকবে সেগুলো বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে থাকবেন।
অভিন্ন প্রশ্ন:
এবার একই প্রশ্নপত্রে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা হবে। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম:
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষায় নিয়ে আসতে চাইছি।
