
রোটারি
ইন্টারন্যাশনালের ২০২৬-২৭ বর্ষের প্রেসিডেন্সিয়াল মেসেজ হলো “ঈৎবধঃব
খধংঃরহম ওসঢ়ধপঃ” অর্থাৎ স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করুন। নাইজেরিয়ার রোটারিয়ান
ঙষধুরহশধ ঐধশববস ইধনধষড়ষধ এই বার্তাটি ঘোষণা করেন এবং বিশ্বব্যাপী
রোটারিয়ানদের আহ্বান জানান এমন কাজ করার জন্য, যার সুফল দীর্ঘদিন ধরে
ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বকে সমৃদ্ধ করবে।
স্থায়ী প্রভাবের দর্শন
রোটারির
মূল লক্ষ্য হলো “ঝবৎারপব অনড়াব ঝবষভ” অর্থাৎ স্বার্থের উর্ধে সেবা, অর এই
সেবার মাধ্যমে সমাজে শুধু পরিবর্তন আনা নয়, বরং এমন পরিবর্তন সৃষ্টি করা যা
সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে। একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, একটি শিক্ষা প্রকল্প,
একটি স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ, দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করা কিংবা শান্তি
প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাÑএসব তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয় যখন তার ইতিবাচক ফলাফল
বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে উন্নত করে।
“ঈৎবধঃব খধংঃরহম ওসঢ়ধপঃ” আমাদের
মনে করিয়ে দেয় যে, সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মূল্য প্রকল্পের আকারে নয়,
বরং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মধ্যে নিহিত। পরির্তন শুরু হতে পারে একটি ছোট
উদ্যোগ থেকে, কিন্তু তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
ব্যক্তি থেকে সমাজে
রোটারি
ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট বাবালোলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে রোটারি
শুধু সমাজকে পরিবর্তন করে না, রোটারিয়ানদেরও পরিবর্তন করে। একজন রোটারিয়ান
যখন নিঃস্বার্থ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন, তখন তার মধ্যে নেতৃত্ব,
সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। এই ব্যক্তিগত
রূপান্তরই সমাজে আরও বৃহত্তর ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
রোটারি ক্লাবগুলোর করণীয়
“ঈৎবধঃব খধংঃরহম ওসঢ়ধপঃ” বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি রোটারি ক্লাবকে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবেÑ
১. অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ স্বস্তিকর ক্লাব পরিবেশ গড়ে তোলা।
২. দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা।
৩. যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করা।
৪. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৫. প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন করে তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
বাংলাদেশের
রোটারি ক্লাবগুলো “ঈৎবধঃব খধংঃরহম ওসঢ়ধপঃ” বার্তাকে সামনে রেখে দারিদ্র্য
বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পানি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবেশ
সংরক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মতো ক্ষেত্রেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে
পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে সক্ষম।
উপসংহার
“ঈৎবধঃব
খধংঃরহম ওসঢ়ধপঃ” শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি একটি অঙ্গীকার। এটি আমাদের
শেখায় যে সত্যিকারের সেবা হলো এমন কাজ করা যা মানুষের জীবনে স্থায়ী
পরিবর্তন আনে। একজন রোটারিয়ান হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন
উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশা, উন্নয়ন ও মানবতার
আলো ছড়াবে।
রোটারির ভাষায়, আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন করতে পারি, তবে
আমাদের ক্লাব পরিবর্তিত হবে; ক্লাব পরিবর্তিত হলে সমাজ পরিবর্তিত হবে; আর
সমাজ পরিবর্তিত হলে বিশ্বে সৃষ্টি হবে এক স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব।
লেখক: অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, রোটারি ডি ৬৫, বাংলাদেশ
