শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় যে ৮ সরঞ্জাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১:২৪ এএম |



পবিত্র মক্কা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান কাবা শরীফ। বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্তের মুসলমানদের হৃদয়ে সুপ্ত বাসনা থাকে পরম করুণাময় আল্লাহর এই পবিত্র ঘর জিয়ারত করার, হজ ও ওমরাহ পালন করার। কাবা শরীফের এই অনন্য পবিত্রতা ও মর্যাদার অংশ হিসেবেই নিয়মিত বিরতিতে এর ভেতরের অংশ ধোয়ার এক বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়, যা ‘গসলুল কাবা’ নামে পরিচিত।
জমজমের পবিত্র পানি এবং বিশেষ গোলাপ জলের মিশ্রণে অত্যন্ত যত্ন সহকারে কাবা শরীফ পরিচ্ছন্ন ও সুবাসিত করা হয়। কাবার এই পবিত্র ধোয়া-মোছার আনুষ্ঠানিকতায় যে আটটি বিশেষ অনুষঙ্গ ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জমজম ও গোলাপ জল ছিটানোর বিশেষ পাত্র
কাবা শরীফ ধোয়ার প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম জমজম ও গোলাপ জলের মিশ্রণ ছিটানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পাত্র ব্যবহার করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্যে জমজমের পানি অত্যন্ত বরকতময় এবং রোগমুক্তির উৎস হিসেবে সুপরিচিত। এর সঙ্গে খাঁটি গোলাপ জলের সংমিশ্রণ চারপাশকে এক স্নিগ্ধ সুবাসে ভরিয়ে তোলে, যা এই পরিচ্ছন্নতার কাজকে আরও আধ্যাত্মিক ও গাম্ভীর্যপূর্ণ করে তোলে।
২. পবিত্র কাবা সুবাসিত করার বিশেষ সুগন্ধি ও মসলা
জমজম ও গোলাপ জলের মিশ্রণ ছিটানোর পর কাবা শরিফের দেয়ালে বিশেষ কিছু সুগন্ধি উপাদানের মিশ্রণ বা মসলা লেপন করা হয়। পবিত্র এই স্থলের মর্যাদা রক্ষা এবং কাবার ভেতরের পরিবেশকে এক অপার্থিব সুবাসে আমোদিত করতেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সুগন্ধিগুলো নির্বাচন করা হয়।
৩. দেয়াল মোছার কাপড় ভেজানোর পাত্র
কাবার ভেতরের দেয়ালে জমে থাকা ধুলোবালি বা যেকোনো দাগ অত্যন্ত আলতোভাবে মুছে পরিষ্কার করতে ভেজা কাপড় ব্যবহার করা হয়। এই কাপড় ভেজানোর জন্য ব্যবহৃত পাত্রটি বিশেষভাবে তৈরি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং পবিত্রতার সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা যায়।
৪. পানি সংরক্ষণের বড় গ্যালন
ধোয়ার কাজ চলাকালীন যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য খাদেমদের সুবিধার্থে জমজম ও গোলাপ জলের মিশ্রণ একটি বড় গ্যালন বা পাত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করে রাখা হয়। এর ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরো পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করা সহজ হয়।
৫. মিশ্রণ তৈরির বিশেষ বাটি
একটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক বাটিতে জমজমের পানির সঙ্গে গোলাপ জল মেশানো হয়, যা এই পুরো প্রক্রিয়ার পবিত্রতাকে আরও ফুটিয়ে তোলে। এই দুই পবিত্র উপাদানের মিশ্রণ কাবার ভেতরের আধ্যাত্মিক আবহকে আরও মহিমান্বিত করে।
৬. দেয়াল মোছার নরম কাপড়
কাবা শরীফের দেয়ালগুলো মুছে পরিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত নরম ও সুক্ষ্ম সুতি কাপড় ব্যবহার করা হয়। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থানের দেয়াল স্পর্শ করার কারণে এই কাপড়গুলো অত্যন্ত সম্মান ও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
৭. ভেতরের অংশ সুবাসিত করার খাঁটি গোলাপ জল
কাবার ভেতরের অংশকে সুরভিত করতে সরাসরি খাঁটি গোলাপ জল ব্যবহার করা হয়, যার ফলে ভেতরের বাতাস এক অপার্থিব সুবাসে ভরে ওঠে। এই সুগন্ধি ছিটানোর বিষয়টি পুরো আনুষ্ঠানিকতার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা কাবার ভেতরে প্রবেশকারীদের এক স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয়।
৮. ধূপ ছড়ানোর তামা বা পিতলের ধূপদানি
কাবার ভেতরের পবিত্র পরিবেশকে আরও আকর্ষক ও গাম্ভীর্যপূর্ণ করতে তামা বা পিতলের তৈরি ধূপদানি ব্যবহার করে সুগন্ধি ধোঁয়া ছড়ানো হয়। এই ধূপের মিষ্টি সুবাস ভেতরের পুরো আবহকে বদলে দেয় এবং সেখানে উপস্থিত ইবাদতকারীদের মনে গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি করে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা সীমান্তের অর্ধশতাধিক এলাকা দিয়ে ঢুকছে মাদক
কাটাবিলে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে ষষ্ঠ শ্রেণিরশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
কুমিল্লায় ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার
কুমিল্লার মুরাদনগরে হত্যা মামলার আসামির স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
গোমতীর বেরিবাঁধ সড়কে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা, বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
কুমিল্লায় দুর্ঘটনার কবলে দুই ট্রেন
দশক শ্রেণীর ছাত্র দিয়ে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে তোলপাড়, তদন্ত কমিটি গঠন
লাকসামে ৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে নিপীড়নের মামলায় ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার
মুরাদনগরে কারখানাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২