
কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রামে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি ঘিরে এক তরুণীকে
মারধর করেছে মোঃ আলামিন নামের এক যুবক। এছাড়াও তরুণীকে আটকে রাখা,
স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী
নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে
জানান থানার উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ দাশ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,
প্রায় দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কাশিনগর
ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আল আমিনের(২৬) সাথে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে
তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলামিন তাঁকে বিয়ের
আশ্বাসে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আলামিন
বিয়ে করবে না বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। গত ৩ মে ওই তরুণী ঘুমের ঔষুধ খেয়ে
‘আত্মহত্যা’র চেষ্টা করলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই সময় বিষয়টি
মিমাংশা করবে বলে নারীকে আশ^স্ত করে আলামিনের পরিবার। আলামিনের ফুফাতো ভাই
নারীকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। গত ৬ জুন সন্ধ্যায় আলামিনের বাড়িতে গেলে
অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে। ওই সময় তরুণীর গলায়
থাকা স্বর্ণের চেইন, ডায়মন্ডের কানের দুল ও হাতব্যাগে থাকা নগদ ৬-৭ হাজার
টাকা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে ওই তরুণীর সাথে যাওয়া সানজিদা আক্তার ও
মনজুরুল ইসলাম রানা কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশ-পাশের লোকজন ওই
তরুণী ও স্বাক্ষী তিথিকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই তরুণী পরদিন চৌদ্দগ্রাম মডেল
থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগের বিষয়ে আলামিন সাংবাদিকদের বলেন,
ফেসবুকের মাধ্যমে ওই তরুণীর সাথে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন আমার সাথে তার
কথাবার্তা হয়েছে। তাকে বিয়ে করার কোন প্রতিশ্রুতি ও শারীরিক সম্পর্ক হয়নি।
বিয়ের দাবিতে বাড়িতে আসলেও কোন প্রকার নির্যাতন ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা
হয়নি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ দাশ মঙ্গলবার বিকেলে
বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষকে শুক্রবার ডাকা হয়েছে’।
