ঢাকার
সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলার বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ
হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলছে সিআইডি।
সংস্থাটি
বলছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলার সুযোগে চক্রটি
ভুয়া মামলার বার্তা পাঠাচ্ছে। তারা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের
(বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের আদলে ওয়েবসাইট বানিয়ে ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের নামে
ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নিত।
এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে চক্রটি।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মো. রাব্বি শেখ (২৪), মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১) ।
ঢাকার
মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ডিআইজি
সানা শামীনুর রহমান বলেন, উত্তরা পশ্চিম থানার একটি মামলার তদন্তে নেমে
সোমবার খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে রাব্বিকে, ফেনী সদর এলাকা থেকে রিয়াদকে ও
ঢাকার দক্ষিণখান থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ
সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভুক্তভোগী তার মোবাইলে বিআরটিএর নামে
ট্রাফিক জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত বার্তা পান। সেখানে দেওয়া লিংকে গিয়ে
দেখতে পান, তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার
টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করলে অর্ধেক
দিলেই হবে- এমন কথাও লেখা হয় সেখানে।
বাদীর অভিযোগ, তিনি জরিমানা পরিশোধ
করতে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য ও ওটিপি দেওয়ার পর
তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লাখ টাকা স্থানান্তর হয়ে যায়।
তার এই মামলা আর আগে পাওয়া দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সিআইডি।
সানা
শামীনুর রহমান বলেন, “চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে এসএমএস
পাঠিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, ট্রাফিক জরিমানা বা মামলা সংক্রান্ত
ভীতিকর বার্তা পাঠাত। সেই বার্তার সঙ্গে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক দিত।
লিংকে যাওয়ার পর বিআরটিএ ওয়েবসাইটের আদলে ওয়েবসাইট দেখতে পেয়ে অনেকে সত্য
মনে করতেন।
“জরিমানা পরিশোধ বা মামলা সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে তারা
ব্যাংক কার্ডের নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য দিলে চক্রটি
কৌশলে ওটিপি হাতিয়ে নিত।”
এর আগে এমন প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করে ঢাকা
মহানগর পুলিশ বলেছিল, সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরায় শনাক্ত
করে ‘অটো জেনারেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় যেসব মামলা হয়, সে বিষয়ে যানবাহন মালিক
বা চালকের নামে নোটিস পাঠানো হয় রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে।
সিআইডির
কর্মকর্তা সানা শামীনুরও বলেছেন, ডিএমপি বর্তমানে শুধু ডাকযোগে এ ধরনের
মামলার কপি পাঠাচ্ছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো কোনো বার্তা,
লিংক বা অনলাইন পেমেন্ট সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার আগে ‘তথ্য
যাচাইয়ের’ অনুরোধ করেছেন তিনি।
