চলতি
বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা
হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম
এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ফলও পরীক্ষা শেষ হওয়ার
দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন)
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষা
খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. আ ন ম এহছানুল হক
মিলন বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন এক আমূল পরিবর্তন
আনা হবে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফলাফলের জন্য
অপেক্ষা না করেই দ্রুত পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে পারবে। কলেজ শেষ করার পরপরই
যেন কোনো সেশনজট ছাড়াই তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করতে পারে,
সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের প্রধান
হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের জনসংখ্যাকে প্রকৃত
মানবসম্পদে রূপান্তরের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটে
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে
সারা দেশে নির্মাণাধীন ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজ
আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এজেন্ডা
বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের
জন্য নতুন কিছু সুখবর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাসের শেষ
সপ্তাহ থেকে স্কুলগুলোতে বিনামূল্যে ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব বিদ্যালয়ে সংশোধিত ও পরিমার্জিত
নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম
দিন থেকেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শুরু করতে পারে।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও
কোচিং সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, নতুন সিলেবাস ও
কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের আর অযথা কোচিং সেন্টারে
মুখাপেক্ষী হতে না হয়। শিক্ষার্থীদের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে এসে পড়াশোনার
পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন
তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
