কুমিল্লার
বুড়িচং বাজারে জমে উঠেছে মৌসুমি ফল তালের শাঁস বিক্রি। একদিকে বিক্রির
ধুম অন্যদিকে বাড়ছে বজ্রপাত, কমছে তালগাছ। কুমিল্লা -বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া
সড়ক, বুড়িচং- কালিকাপুর সড়ক, কুমিল্লা - বাগড়া সড়ক, উপজেলা গেইট, বুড়িচং
বাজার, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের পাশে, বাজারের বিভিন্ন মোড়ে প্রতিদিন কাঁচা
তাল নিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি পিস তালের শাঁস (কাঁচা তাল) বিক্রি হচ্ছে
৩০-৪০ টাকা, এক কুড়ি তালের শাঁস ৩০০-৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যেখানে এক
কুড়ি পাকা তাল ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানান উপজেলার ৯ টি
ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৪ হাজার ২০০থেকে ৩০০টি তালগাছ রয়েছে।
লড়িবাগের
বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান- এখন আর আগের মতো তাল পাওয়া যায় না। আগে
রাস্তার পাশে তালের রস নিয়ে বসত, সেটি এখন আর দেখা যায় না। এখন কাঁচা তালের
শাঁস খাচ্ছি। কিছু দিন পর এটিও আর খেতে পারব কিনা জানি না। কেননা যে ভাবে
তালের গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে বেশি দিন আর এ গুলো খাওয়া যাবে না। আগে এক হালি
(৪টি) তাল কিনতে পারতাম ৭০-৯০ টাকায়, এখন ২৫০ টাকায়ও মিলছে না। ক্রেতা
সাহিদুল ইসলাম বলেন, তাল একটি মৌসুমী ফল, এটি অনেক সুস্বাদু ও উপকারী।
তালগাছ কমে যাওয়ায় আগের থেকে এখন দাম বেশি। তালের স্বাদ ধরে রাখা ও গ্রামীণ
ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আমি সবাইকে তালগাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই। বুড়িচং
উপজেলার পৌরসভার বাসিন্দা মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মো: বাছির মিয়া বুড়িচং
প্রেস ক্লাবের সামনে(হতাশার মোড়) প্রতিদিন তাল বিক্রি করছেন। তিনি বলেন,
আমি পাঁচ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এ বছর তালের দাম বেশি, তাল এখন পাওয়া
যাচ্ছে না। ১২ বছর ধরে তালের ব্যবসা করেন বাকশীমূল ইউনিয়নেরমো: সবুজ, তিনি
বলেন, তখন তালের কুড়ি ছিল ১৮০ টাকা। এরপর বাড়তে বাড়তে বর্তমানে এক কুড়ি তাল
বিক্রি হচ্ছে ৭০০/৮০০ টাকায়। আর শাঁসের কুড়ি ৩০০-৩৫০ টাকা। আমি প্রতিটা
গাছ কিনেছি ২৫০০ টাকায়। সেই গাছের তাল বিক্রি করছি ৪৫০০-৪৭০০ টাকায়।
প্রতিটা গাছে ৩০০০-৩২০০ টাকা লাভ হয়। বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা
আক্তার বলেন, তালের শাঁস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, তালের রসও অনেক উপকারী।
তালের রস দিয়ে গুড়, মিছরি তৈরি হয়। বৈশ্বিক আবহাওয়ার কারণে তালগাছ দিন দিন
কমে যাচ্ছে। তবে আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তালগাছ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ
নিয়েছি। বুড়িচং কৃষি অফিস জানায় 'দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা' মন্ত্রাণালয় একটি
লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে বজ্রপাত সহনশলী এই তাল গাছের বীজ ও চারা রোপণ করার
উদ্যোগ নিয়েছে। দিন দিন তালগাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন,
গ্রামাঞ্চলের মানুষ তালগাছের গুরুত্ব না বুঝে কেটে ফেলছে। যেহেতু তালগাছে
বছরে একবার ফলন হয়, লাভ কম, সে কারণে তালগাছ কেটে ফল বা কাঠের গাছ রোপন
করছে, সে কারণে তালগাছ কমে যাচ্ছে। তালগাছে ফলন কম হলেও দুর্যোগ (বজ্রপাত)
থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
