পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে অসুস্থ ওমরাযাত্রী হেদায়েতুল ইসলামের খোঁজখবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। রোববার সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে রোগীর পরিবারের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হেদায়েতুল ইসলামকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন ধর্মমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ফেনীর বাসিন্দা হেদায়েতুল ইসলাম (৭৪) ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকেন। প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি নানা আর্থিক ও শারীরিক সংকটে পড়েন।
বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) ব্যক্তিগত উদ্যোগে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৩ মে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী নিয়মিত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তার চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানা গেছে। হজ পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি পুনরায় হাসপাতালে গিয়ে রোগীর খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
হেদায়েতুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা ধর্মমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে অসুস্থ অবস্থায় থাকার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ায় পরিবারটি আশ্বস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, “হেদায়েতুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হেদায়েতুল ইসলামের চিকিৎসা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
