মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অবিলম্বে রায় কার্যকর হোক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:১১ এএম |

অবিলম্বে রায় কার্যকর হোক
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় গতকাল দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। যেখানে বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রতাই আমাদের তিক্ত বাস্তবতা; সেখানে স্বল্প সময়ে এই রায় অনন্য দৃষ্টান্ত।
রামিসার নৃশংস ঘটনা জনমনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, সেই দিক থেকেও এটি স্বস্তির খবর। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাই।
প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু। বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচারকাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। এর আগে গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে।
এই প্রেক্ষাপটে আমাদের সামনে প্রশ্ন আসে, রায় দ্রুত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রায় কার্যকর কি দ্রুত হয়েছে? তথ্য-উপাত্ত বলছে, রায় কার্যকর হওয়ার নজির অত্যন্ত হতাশাজনক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যদিও আমাদের আইনে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ কঠোর সাজার বিধান আছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগের অভাবে আইনটি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।’
১৯ মে পাশের ফ্ল্যাটে অবর্ণনীয় নৃশংসতার শিকার হয় সাত বছরের শিশু রামিসা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গোটা দেশ ফুঁসে ওঠে। ঘটনার শুরু থেকেই সরকারের তরফ থেকে তৎপরতা দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় ছুটে যান এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। দ্রুতই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন দিনের মধ্যে ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় চার্জশিট দেওয়া হয়।
দেখা যাচ্ছে, যেসব ঘটনা আলোচিত হয়, প্রতিবাদ হয়; সেসব ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া গতি পায়। কিন্তু বাকি ঘটনাগুলো কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়। এমনকি আলোচিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর আটকে থাকে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রামিসার মামলা দ্রুত বিচারের মুখ দেখলেও চট্টগ্রামে শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার মামলা ঝুলে আছে। এমন উদাহরণ একটি-দুটি নয়। গত ১০ বছরে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তিন শতাধিক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের পরিবার এখনো বিচার পায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে দিন দিন আমাদের সমাজ কন্যাশিশুর বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। রামিসার বাবার করুণ কণ্ঠেও তা শোনা গেছে। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সমাজে তিন ফুটের ভেতরেও শিশুদের নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না।’ কাজেই কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে অবশ্যই ধর্ষকদের সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করতে হবে।
আমরা মনে করি, রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত রায়ের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, তা রায় কার্যকরের ক্ষেত্রেও অক্ষুণ্ন থাকবে। শিশু নিপীড়কদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হোক-এটাই কাম্য।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
নগরভবন বর্তমান স্থানেই চায় কুমিল্লার মানুষ
ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি এমপি মনির চৌধুরীর
সাবেক এমপি বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় মহাসড়কে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন গ্ৰেফতার
প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
নগরভবন বর্তমান স্থানেই চায় কুমিল্লার মানুষ
বুড়িচংয়ে কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্রের মহড়া, তিন দিনেও আটক নেই
কমেনি ভোগান্তি, থামছে না সিএনজির ভাড়া নৈরাজ্য
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২