নির্বাচনের
দুদিন পর নিউ ইয়র্ক থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আসেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তাকে নিয়ে বিজয় উদযাপন করেন। পরে সাংবাদিকদের
মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয়
আমাদের যে অভূতপূর্ব গণতান্ত্রিক উত্তরণ হয়েছে, তার বিজয়। এই বিজয় আমাদের
প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়।
“কারণ তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং
দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে এবং বিরতিহীনভাবে আমাদেরকে সমর্থন না করতেন, তাহলে এই
১০ বছরের রাস্তা ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না।”
আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পরবর্তী সেশনের সভাপতি পেয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
একই
পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও
প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের
প্রার্থিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।
এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর
অন্তর্র্বতীকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
খলিলকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
প্রার্থী পরিবর্তনের পর মাত্র তিন মাসের প্রচারেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
খলিল
১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কাজ করেছেন জাতিসংঘের
বিভিন্ন সংস্থায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিজয়ের পেছনে কাজ করা সবাইকে
স্মরণ করে খলিল বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা বিদেশে
যারা আছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে, নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
“আমাদের পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা, আমরা যেই টিম
স্পিরিটে কাজ করেছি, এই বিজয়ের পেছনে তার অবদান ছিল বিপুল। এই বিজয় আমরা
বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।”
