অবশেষে শুরু হয়ে গেল ফুটবল বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার রাতে (স্থানীয় সময় দুপুরে) জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হলো বিশ্বকাপের। কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরার গান, নাচ এবং নাইজেরিয়ার পপ তারকা বার্না বয়ের গানে জমকালো হয়ে রইল অনুষ্ঠান।
এ দিন সকাল ৭টা থেকে অ্যাজ়টেকা স্টেডিয়ামের বাইরে লাইন পড়েছিল। সকলেই আগে আগে স্টেডিয়ামে ঢোকার ইচ্ছা নিয়ে এসেছিলেন। সকাল থেকে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। যত বেলা গড়ায়, ভিড় বাড়তে থাকে স্টেডিয়ামের বাইরে। প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অনেকের কাছেই টিকিট ছিল না। তাঁরা স্রেফ বিশ্বকাপ-জ্বরে গা ভাসাবেন বলে হাজির হয়েছিলেন। বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরে হাজির হতে দেখা গিয়েছে সমর্থকদের। স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন বেশির ভাগই।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা নাগাদ শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরু হয় মেক্সিকোর রক ব্যান্ড ‘মানা’কে দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় জনপ্রিয় ‘ওয়ে মি আমোর’ গান গেয়ে মেক্সিকোর জনতার হৃদয় জিতে নেয় মানা। গোটা স্টেডিয়াম গাইছিল তাঁদের সঙ্গে। এর পর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসান মঞ্চে ওঠেন। তিনিও স্পেনীয় গান এবং তাঁর জমকালো পোশাকে মাতিয়ে দেন দর্শকদের।
এর পরেই যাঁর জন্য অপেক্ষা ছিল, তিনি হাজির হন স্টেডিয়ামে। হলুদ জামা, সাদা মিনিস্কার্ট এবং চোখে রোদচশমা নিয়ে হাজির হন শাকিরা। সঙ্গে ছিলেন বার্না বয়। বিশ্বকাপের ‘থিম সং’ গেয়েছেন তাঁরা। স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছে উল্লাসে। শাকিরা এবং বার্না বয়ের নাচ এবং গান মাতিয়ে দেয়।
অনেকেই এই অনুষ্ঠানকে তুলনা করেছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের মূল ম্যাচ সুপার বোলে হওয়া অনুষ্ঠানের সঙ্গে। সেখানেও একটি অনুষ্ঠানে একাধিক তারকাকে হাজির করানো হয়। পর পর পারফর্ম করেন তাঁরা। এই বিশ্বকাপেও তেমন কিছুই করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৩০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপ বহুবার মহাদেশ পেরিয়েছে, আয়োজক বদলেছে, বেড়েছে দল ও দর্শক। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বরাবরই সীমাবদ্ধ থেকেছে একটি দেশ, একটি শহর আর একটি মঞ্চে। ২০০২ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। শুধু সিউলেই আয়োজিত হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জাপান পায়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সুযোগ।
২০২৬ বিশ্বকাপ সেই প্রচলিত ছবিটাই বদলে দিল। প্রথমবারের মতো তিন আয়োজক; যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিন দেশেই হচ্ছে উদ্বোধনী আয়োজন। অর্থাৎ বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে এক শহরে নয়, তিন ভিন্ন সংস্কৃতি ও তিন আলাদা আবহে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের প্রদর্শনী। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করেন কলম্বিয়ান তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ার বার্না বয়ের। দুজনের পারফর্ম রীতিমতো মুগ্ধ ছড়িয়েছে স্টেডিয়ামসহ গোটা বিশ্বে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলার মঞ্চে পারফর্ম করেন।