শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কুমিল্লায় চামড়া কিনে এবারো বিপাকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
বিক্রি করতে না পেরে ফেলেছেন রাস্তায়-খালে
রণবীর ঘোষ কিংকর।
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১২:৪১ এএম আপডেট: ০২.০৬.২০২৬ ১:১২ এএম |

  কুমিল্লায় চামড়া কিনে এবারো বিপাকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

কুমিল্লার চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে ২৪ ঘন্টায়ও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কেউ রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন, কেউবা খালে। আবার কেউবা পিকআপ ভাড়া করে আশা নিয়ে আড়তে গিয়ে হতাশ হয়ে সেখানেই ফেলে চলে এসেছেন। 
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর থেকে রাত অবধি জেলার চান্দিনা উপজেলা সহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহলা ও আড়ত গুলো ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। 
জানা যায়- এবছর সরকার রাজধানীর বাহিরে লবনযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ২টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। সেই প্রভাব পড়ার কথা গ্রামাঞ্চলগুলোতেও। উল্টো গত বছরের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে সিন্ডেকেট করে রেখেছেন আড়ৎদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। যে কারণে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে এসব পরিস্থিতির জন্য ট্যানারি মালিকদের দায়ী করছেন আড়তদাররা। 
মৌসুমী ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- আমরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া না কিনলে বড় বড় ব্যবসায়ী, আড়ৎদার বা ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে পারতো না। আমরা ৪-৫শ টাকা দরে চামড়া কিনে রাত ১০টা পর্যন্তও বিক্রি করতে পারিনি। পাইকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেছেন। যারাই এসেছেন ঘুরে ফিরে একই দাম বলছে। পরে বাধ্য হয়ে ২শ টাকা দরে বিক্রি করেছি। 
উপজেলা শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আবুল হাসেম জানান- গড়ে সাড়ে ৪শ টাকা দরে চামড়া কিনে আড়াইশ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমি প্রায় ৩০ বছর যাবৎ প্রতি কোরবানি ঈদে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনি। কিন্তু এ বছর চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। 
ছায়কোট এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান- আমি রাত ৩টা পর্যন্ত চামড়া গুলো নিয়ে রাস্তার পাশে বসে থেকে ফেলে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। দাম বলা থাক দূরের কথা কোন পাইকার আসেনি। ভোরে এলাকার কয়েকজন সেগুলো কুড়িয়ে একটি আড়তে নিয়ে নাকি ১শ টাকা দরে বিক্রি করেছে। 
মৌসুমী ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান- আমি ৭৬টি চামড়া নিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর পিকআপ ভাড়া করে চামড়া গুলো নিয়ে ইলিয়টগঞ্জ আড়তে যাই। সেখানে যাওয়ার পর কোন আড়াতদার একটি দামও করেনি। ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে সেখানেই ফেলে চলে আসি। 
চান্দিনার চামড়ার পাইকারী ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান- আগে চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন আড়তে অন্তত ২ লাখ চামড়া সংগ্রহ করতো ব্যবসায়ীরা। এখন ২০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করতেই ভয় পায়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন- আমরা চামড়াগুলো ট্যানারিতে দেই, ট্যানারি মালিকরা আমাদের টাকা বছরের পর বছর আটকে রাখে। কোন কোন ট্যানারি টাকা উধাও। প্রতি বছর আমাদের পর পাইকারী ব্যবসায়ী ও আড়তদারা চামড়া কিনে লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই এ পেশা ছেড়েছেন। যে কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে লোকসানের মুখে পড়েছেন। 














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
প্রথমার্ধে কানাডার জালে বসনিয়ার এক গোল
কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো
কুমিল্লা সীমান্তে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা
বরুড়ায় রাকিব হত্যা প্রধান আসামি ছোটন ঢাকায় গ্রেপ্তার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
পলাতক বাহারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি
ঢাকা-কুমিল্লা রেল কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
চৌদ্দগ্রামে পিতার ২০ বছর পর পুত্রকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা
মালয়েশিয়া থেকে ফেরার রাতেই ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৩
দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২