কুমিল্লার
বরুড়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বরুড়া পৌরসভা ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণীর
পৌরসভায় উন্নীত হলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের
মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর ও বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি পেলেও সেবার মানে
দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা ও বেহাল
অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাইপাস সড়কের অভাব, ফুটপাত দখল, অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র গাড়ি
পার্কিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায়
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় নোংরা পানি জমে পরিবেশ
ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে
চরম অব্যবস্থাপনা।পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাজার ও
গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা খোলা স্থানে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর
পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ
করেন, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে কর আদায় করা হলেও তারা মানসম্মত রাস্তা,
কার্যকর ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও যানজটমুক্ত নগর
সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নাগরিকদের দাবি, বরুড়া পৌরসভার অবকাঠামোগত
উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট
নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ
গ্রহণ করা হোক।
ওরাই আপনজন সংগঠন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুকুল ইসলাম বলেন, ট্যাক্স বৃদ্ধি পেয়েছে, সেবার মান কমেছে। জন দূর্ভোগ বেড়েছে।
এ
বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন,
পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। আরো গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে
তিনি আস্বস্ত করেন। এছাড়া বাজারের ভাউকসার রোডস্থ সোলিং অংশে টেন্ডার হয়েছে
পৌরসভার অন্যান্য রাস্তা ঘাট, ডেনের যত রকমের সমস্যা আছে পর্যায়ক্রমে
উন্নয়ন কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বআরোপ করা হবে বলে জানান।
