চৌদ্দগ্রাম
প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ
উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের নাম মোঃ ওমর ফারুক। তিনি আলকরা
ইউনিয়নের লাটিমী রাস্তার মাথার পশ্চিম পাশে অবস্থিত জামিয়া সালমান
ফারসি(রাঃ) এর শিক্ষক। নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে থানায় লিখিত
অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিলরী গ্রামের আলা
উদ্দিনের ছেলে মোঃ জুনাইদ গত ৭-৮ মাস যাবৎ জামিয়া সালমান ফারসি(রাঃ)
মাদরাসার হেফজ বিভাগে পড়ালেখা করছে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার তুচ্ছ কারণে
শিক্ষক ওমর ফারুক ছাত্র মোঃ জুনাইদকে মারধর করে। রোববার বিকেল ৩টায়
জুনাইদের ব্যবহৃত একটি হাত ঘড়ির বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক অকথ্য ভাষায়
গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে শিক্ষক ওমর ফারুকের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ছাত্র
জুনাইদের শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে। জুনাইদের কান্নার
আওয়াজ শুনে অপর শিক্ষক ও মাদরাসার নির্মাণ শ্রমিকরা এগিয়ে আসলে জুনাইদ
প্রাণে রক্ষা পায়। এ ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলারও
হুমকি দেয়া হয় জুনাইদকে। জুনাইদের শরীরে এখনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়রা
জানায়, শিক্ষক ওমর ফারুক ছাত্রদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করে আসছে। মাদরাসার
মুহতামিম হোসাইন আহম্মেদকে জানালে তিনি কর্ণপাত করেন না। ফলে অনেক অভিভাবক
অতিষ্ঠ হয়ে তাদের সন্তানকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই ওই
শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান
জানান সচেতন অভিভাবকরা।
শিক্ষক ওমর ফারুক মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে
বলেন, ‘মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী কাউকে মারধর করা ঠিক নয়। সে অন্যান্য
ছাত্রদেরকে মারধর করে। বেশ কয়েকবার তাঁর পিতাকে জানালেও তিনি বলেন, আরেকটু
দেখেন। রোববার বেশি দুষ্টমি করায় তাকে বেত্রাঘাত করা হয়’।
জামিয়া সালমান
ফারসি(রাঃ) এর মুহতামিম হোসেন আহম্মেদ মঙ্গলবার রাতে বলেন, বিষয়টি আমার
জানা নেই। আপনার মাধ্যমে শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।
