চৌদ্দগ্রাম
প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের তেলিগ্রাম মধ্যম
পাড়ায় বসতিপূর্ন এলাকায় মুরগীর খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে
উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে নীতিমালা উপেক্ষা করে বসতবাড়ির পাশে ওই
খামারটি গড়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর
একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি
দ্রুত দুর্গন্ধযুক্ত মুরগির খামারটি অপসারণের দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের
কাছে।
অভিযোগে জানা যায়, কাজী সাদ্দাম হোসেন বাপ্পী দীর্ঘ দিন ধরে
গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকায় মুরগির খামার স্থাপন করে ব্যবসা করছেন। বাপ্পী
তেলিগ্রাম এর মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে। বর্তমানে তার খামারে প্রায় আড়াই
হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। সাইফুল ইসলামের ঘরের ৭-৮ ফুট দূরত্বে খামারটি
অবস্থিত। বাড়ির পাশে বড় গর্ত করে ফেলা হয় মুরগির বিষ্ঠা। এতে দুর্গন্ধে
অতিষ্ঠ সাইফুলের পরিবারসহ আশপাশের মানুষ। দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।
মুরগির বিষ্ঠায় খামারের পাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত
খামারের র্দুগন্ধে ঘরে থাকা অসম্ভব বলে জানান সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগে
তিনি আরো উল্লেখ, খামারটি অপসারণের জন্য বারবার বলার পরও তারা সেটি বন্ধ
করছেন না। অথচ, নীতিমালা অনুযায়ী একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা পরিত্যাগ করে খামার স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে
খামারী বাপ্পী সে আইনকে তোয়াক্কা না করে নির্বেগ্নে পরিবেশের ক্ষতি করে
খামারের ব্যবসা করছেন। তার খামারের নেই কোন নিবন্ধন এবং নেই পরিবেশ
অধিদপ্তরের অনুমতিপত্রও।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাপ্পী বলেন,
মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে তিনি বায়োগ্যাস প্লান্ট করবেন। তিনি স্বীকার করেন
মুরগির বিষ্ঠার গন্ধে পরিবেশের ক্ষতি হয় এবং তিনি লেয়ার মুরগির আরেকটি
ব্যাচ করে খামারটি অপসারণ করবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা:
আবদুল্লাহ আল মামুন সাগর বলেন, লোকালয়ে খামার করার কোন সুযোগ নেই। লোকালয়
থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে নির্জন স্থানে যেখানে জনবসতি নেই, কোলাহল
মুক্ত: সেখানে খামার করতে হবে। লোকজনের যাতায়াত কম এসব জায়গায় খামার করা
উত্তম। আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে খামার করতে চান অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের
ছাড়পত্র নিতে হবে। আপনি যদি ছোট আকারে করেন, সে ক্ষেত্রেও আপনাকে বর্জ্য
ব্যবস্থাপনায় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিবেশী ও মানুষের কোন অসুবিধা না হয়।
খামার বর্জ্যের বায়ো সিকোরিটি মেইনটেইন করতে হবে। যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি
না হয়, দূর্গন্ধা না ছড়ায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডা: রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম করার
কোন বিধান নেই। যদি কেউ করে থাকেন তাহলে এটা অন্যায় হয়েছে। আবাসিক এলাকায়
পোল্ট্রি ফার্ম করলে অনেক গুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। হাঁস মুরগীর
বর্জ্যথেকে জীবানু বায়ুবাহিত হয়ে আমাদের শরীরে যদি নিয়মিত ডুকতে থাকে,
তাহলে আমাদের এলার্জি জনিত সমস্যা হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত এজমা ও
নিউমোনিয়া হতে পারে। পোল্ট্রি বর্জ্যের তীব্র গন্ধেচোখে, ত্বকে এলার্জিসহ
বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবানু ছড়াতে পারে। এ ধরনের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকলে
মানুষ শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য নয় শুধু মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
কুমিল্লা
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন রাজিব বলেন, আমরা
তদন্ত করে দেখবো। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে পরিবেশ আইন মোতাবেক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
