বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা
নগরীর কাজীপাড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে
প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সদর
দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন সৈয়দা খালেদা আক্তার ওরফে
বকুল (৫৯)। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর
ওয়ার্ডের কাজীপাড়ার মীর বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক বসতভিটার সীমানা
নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক
সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশদাররা বণ্টননামা দলিল অনুযায়ী সীমানা
নির্ধারণ করে দেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ মে
দুপুর ২টার দিকে আহত সৈয়দ আব্দুল মোতালেব টুটুল নির্ধারিত সীমানায় টিনের
বেড়া নির্মাণ শুরু করলে প্রতিবেশী সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস, তার ছেলে সৈয়দ
সাকিব ও স্ত্রী ফাতেমা মজুমদার এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে
বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে অভিযুক্তরা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয়
অস্ত্রশস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায়
সৈয়দ আব্দুল মোতালেব গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, শাবলের আঘাতে তার একটি
দাঁত ভেঙে পড়ে এবং ঠোঁট কেটে যায়। এছাড়া সুইচ গিয়ারের আঘাতে তার পেটের
বাম পাশে গুরুতর জখম এবং লোহার রডের আঘাতে হাঁটুতে আঘাত লাগে। তাকে রক্ষা
করতে এগিয়ে আসা আরও দুজনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসময় একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং এক নারীর গলায় থাকা এক ভরি
ওজনের স্বর্ণের নেকলেস টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই
নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। সেখানে আহত সৈয়দ আব্দুল
মোতালেবের ঠোঁটে দুইটি এবং পেটে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ
বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. হারুন অর রশিদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে
দুই পক্ষের মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায়
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বণ্টননামা দলিল সম্পন্ন করি। সেই দলিল
অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করে বেড়া দিতে গেলে আব্দুল কুদ্দুস ও তার লোকজন
বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় টুটুলের উপরের মাড়ির দাঁত ভেঙে গেছে।
সুইচ গিয়ারের আঘাতে তার পেটে ছয়টি সেলাই করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রুমিনা আক্তার জানান, কিছু
লোক অস্ত্র নিয়ে বেড়া ভাঙছিল। টুটুল ভাই বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়
এবং পেটে আঘাত করা হয়। এসময় আমার ছেলেও এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে আহত
করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সদর দক্ষিণ
মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সদর
দক্ষিণ কাজীপাড়ার সৈয়দবাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা দায়ের করা
হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত
কিছু বলা যাচ্ছে না।
