নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় ১১ দিনের বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে জেলার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮২ শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ১০ হাজার শিশু টিকাবঞ্চিত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বাকি শিশুদেরও খুঁজে খুঁজে টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, কুমিল্লার ১৭ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং লাকসাম পৌরসভা এলাকায় মোট ৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৭২ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশের মতো কুমিল্লাতেও একযোগে শুরু হয় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন। ১১ দিনের এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে সচেতনতার অভাব, দূরবর্তী এলাকা এবং নানা কারণে এখনো কিছু শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরুড়ায় ৫৯ হাজার ৬৪২, ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৭ হাজার ১২৩, বুড়িচংয়ে ৪২ হাজার ১৭৩, চান্দিনায় ৫১ হাজার ৮৩৮, চৌদ্দগ্রামে ৭১ হাজার ৩৬৫, আদর্শ সদরে ৩৯ হাজার ৮৭৬, সদর দক্ষিণে ২২ হাজার ৪২৯, দাউদকান্দিতে ৫৩ হাজার ৯৪৪, দেবিদ্বারে ৭১ হাজার ৫০৯, হোমনায় ৩৪ হাজার ৬০৭, লাকসামে ৩২ হাজার ৮২, লালমাইয়ে ২৬ হাজার ৬৮৬, মনোহরগঞ্জে ৩৪ হাজার ৪৪৬, মেঘনায় ১৪ হাজার ৬৬১, মুরাদনগরে ৮৩ হাজার ১২০, নাঙ্গলকোটে ৪৭ হাজার ৮১৬, তিতাসে ২৮ হাজার ৭৫৮ এবং লাকসাম পৌরসভায় ৫ হাজার ৬০৭ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জন সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য বলছে, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ শয্যার বিপরীতে একসঙ্গে ১০১ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত্যুর সংখ্যা আপাতত না বাড়লেও প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম ফারুক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই যেসব শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
