কুমিল্লার
মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামে রাস্তা নির্মাণকে
কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেলোয়ার হোসেন মৃধা (৩৫) নামে এক যুবক নিহত
হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে
১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নিহত দেলোয়ার হোসেন
মৃধা মৃত আব্দুল খালেক মৃধার ছেলে। আহতরা হলেন নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ
মৃধা (৩৮), কামাল (৩৫), অপর পক্ষের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ
সম্পাদক নাছির উদ্দীন (৪৭) এবং তার শ্যালক মো. হালিম (৩৫)।
পুলিশ ও
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বাড়ি
সংলগ্ন এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিরোধ
চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল বাতেন মৃধার জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ
করতে চান নাছির উদ্দীন মেম্বার। তবে জমির মালিক পক্ষ রাস্তা নিতে আপত্তি না
করলেও জমির একপাশ দিয়ে রাস্তা নেওয়ার দাবি জানায়।
শুক্রবার রাতে এ
বিরোধ মীমাংসায় একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে
শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভুট্টাখেত এলাকায় দেলোয়ার মৃধাকে একা পেয়ে
ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তার চিৎকার শুনে উভয়
পক্ষের লোকজন এগিয়ে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
গুরুতর আহতদের প্রথমে মেঘনা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়
পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দেলোয়ারকে মৃত
ঘোষণা করেন।
চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন,
বিষয়টি আগে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ও
উত্তেজনার জেরে শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার জানান, রাস্তা নির্মাণ নিয়ে একটি
লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তে অভিযোগকারীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা না
যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় অনেকেই রাস্তা নির্মাণের পক্ষে ছিলেন।
শহিদুল
ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
