বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
টিকা সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুতে গাফিলতি দেখতে তদন্ত হচ্ছে : স্বাস্থ্য সচিব
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ এএম আপডেট: ১০.০৫.২০২৬ ১:১৭ এএম |




 টিকা সংকট ও হামে  শিশুমৃত্যুতে গাফিলতি দেখতে তদন্ত হচ্ছে : স্বাস্থ্য সচিবদেশে হামের টিকার সংকট এবং এ রোগের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুমৃত্যুর কারণ ও দায়িত্বে কারও গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, টিকার সংকট ও হামের ঘটনায় কোনো তদন্ত হবে কিনা?
জবাবে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “আমি এখন একটু বিস্তারিতটা না বলি, তদন্ত হবে। এটা আমাদের উপরে আস্থা রাখেন। কাজ করছি। সর্বোচ্চ লেভেল থেকেও বলছি, তদন্ত করছি। ইনশাল্লাহ তদন্ত রিপোর্ট আপনারা জানতে পারবেন।
“কেন আমাদের এই বাচ্চাগুলো হারালাম, কী কারণে, কোথায় সমস্যা ছিল, আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা বা আমাদের কর্মকর্তাদের কিংবা দায় দায়িত্ব নির্ধারণ হবে- সবই একটা তদন্ত হলে যা হয়, সবকিছুই হবে ইনশাল্লাহ। এটা আপনারা দেখবেন।”
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, তদন্ত শুরু হবে- নাকি তদন্ত হচ্ছে। জবাবে সচিব বলেন, “বলেছি, এটা একটা তদন্ত হচ্ছে। এটা নিয়ে মনে হয় বেশি কথা না বলি, আপনারাও। আমরা তখন এটা প্রকাশ করব ইনশাল্লাহ।

“তদন্ত তো হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে।”:
দেশে হামের টিকার সংকটের মধ্যে সারাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯১ জন মারা গেছে।
হাসপাতালগুলোতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে শিশু আসার সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৯৪৬ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; তাদের মধ্যে ৭৬৯ জন ভর্তি হয়েছে।
আর ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের প্রকোপ বাড়তে থাকার মধ্যে শিশু মৃত্যু বাড়তে থাকলে সরকার টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে এবং নতুন করে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।
দেশের এমন প্রেক্ষাপটে শনিবারের আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য সচিব তদন্ত শুরু হওয়ার কথা জানালে তাকে প্রশ্ন করা হয়- তদন্তে দোষী পাওয়া গেলে কী হবে? তখন তিনি বলেন, “আমি জানি যে তদন্ত হচ্ছে। দোষী কী হবে, সেটা তদন্ত হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “প্রত্যেকটি ঘটনায় তদন্ত হওয়া দরকার, জনগণের জানা দরকার এবং আমাদের সরকার আমি মনে করি যে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকার মানুষের, আমরা বিশ্বাস করি সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত।
“আমরা যখনই তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন আপনারা জানবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আপনারা সবকিছুই জানবেন ইনশাআল্লাহ।”
তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, “না, তদন্ত হচ্ছে। আমি এইটুকুই বলতে পারি যে তদন্ত হচ্ছে। আপনারা জানেন।”
তবে তদন্ত কমিটিতে কারা আছেন, কবে তদন্ত শুরু হয়েছে, কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়ার পর টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কোভিড পরবর্তী অব্যবহৃত অর্থ থেকে এই টাকা ব্যবহারের কথা বলেন তিনি।
সচিবের ভাষ্য, ৩১ মার্চ জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। পরদিন সভায় ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় সংক্রমণ বেশি থাকার তথ্য আসে। পরে ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নিয়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকাদান শুরু হয়।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যাপ্ত টিকা আসতে শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল ও সিলেট বিভাগে টিকার আওতা তুলনামূলক কম। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত ইপিআই সূচির বাইরে তিন বা চার বছর বয়সী কোনো শিশু এক ডোজও না পেলে তারা টিকা পাবে কি না, এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, “চলমান থাকবে এবং পাবে। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। টিকা চলমানও থাকবে এবং পাবে, আমরা এই নিশ্চয়তা আপনাকে দিতে পারি।”
সচিব বলেন, পরে আরও ৪১৯ কোটি টাকার টিকা কেনার চাহিদা দেওয়া হয়েছে এবং সে বিষয়ে কাজ চলছে।
টিকা বহনকারী পোর্টারদের বেতন-ভাতার সমস্যা নিয়ে সচিব বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
ইউনিসেফের মাধ্যমে ভিটামিন এ ক্যাপসুল কেনার সিদ্ধান্তের কথাও জানান সচিব। এতে চার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ইউনিসেফের ম্যাচিং ফান্ডে ১০ কোটি টাকায় ২০ কোটি টাকার ওষুধ পাওয়া যাবে।
সচিব বলেন, সাধারণ প্রক্রিয়ায় কিনলে ১০১ দিন সময় লাগত। ইউনিসেফের মাধ্যমে কিনলে সর্বোচ্চ ৭০ দিন লাগবে।
হামের কারণে স্কুল বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা তার জানা নেই।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, মুন্সীগঞ্জে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি আগে গোপালগঞ্জে হওয়ার কথা ছিল, পরে মুন্সীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। ফুলটাইম প্রকল্প পরিচালক পাওয়া গেলে প্রকল্পটি দ্রুত এগোবে।
তার ভাষ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশ হতে পারবে।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার
তিন বছর স্ট্যান্ডের ইজারা নেই, বছরে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মানসিক প্রতিবন্ধি রোগী নিখোঁজ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বৈঠক
জলাবদ্ধতা নিরসনে কুমিল্লা নগরীর খাল পরিদর্শনে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু
কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২