অন্য
আর ১০ জন ছাত্রের মতো বড় স্বপ্ন নিয়েই ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়েছিলেন তানভীর
আহমেদ। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালোবাসা আর আবেগ থেকে খেলতে শুরু করেন
ক্রিকেট। সময়ের সাথে সাথে সেটা পৌঁছেছে আরো বড় পর্যায়ে। বর্তমানে
ইংল্যান্ডের ঘরোয়াতে কোচিং করিয়ে বেড়াচ্ছেন তানভীর।
২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স করেছেন তানভীর। সবশেষ এবার পেলেন বড় সম্মাননা।
ক্রীড়াক্ষেত্রে
অসামান্য অবদান, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ ভূমিকা
রাখায় লন্ডনের ঐতিহাসিক ফ্রিডম অব দ্য সিটি সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন
মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ।
ইসিবির লেভেল-৩ অ্যাডভান্সড ক্রিকেট কোচ তানভীর
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক মানের
খেলোয়াড় তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন। খেলাধুলাকে কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম
হিসেবে নয়, বরং বৈচিত্র্যময় পটভূমির তরুণদের একীভূত করার ক্ষেত্রে একটি
সেতু হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি।
তার নিরলস দায়িত্বে এবং নেতৃত্বের
মাধ্যমে অনেক তরুণ ক্রিকেটের মাঝে নিজের আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্য খুঁজে
পেয়েছে। যে কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার এই কাজ তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক
উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তার এই বহুমুখী নেতৃত্বের
স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)
এবং দ্য ক্রিকেটার থেকেও জাতীয় পর্যায়ে ভূষিত হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের
প্রাচীনতম এবং অত্যন্ত সম্মানিত নাগরিক সম্মাননাগুলোর একটি হলো ফ্রিডম অব
দ্য সিটি। যারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন, কেবল তাদেরই এই
সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে এই সম্মাননা পেয়েছেন অ্যালিস্টার কুক, ইয়ন
মরগান, হ্যারি কেইনরা।
এমন সম্মাননা পেয়ে যে কারণে উচ্ছ্বসিত তানভীর
বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো লাগছে। আমি চেষ্টা করি ১৫-১৬ বছরের একটা
ক্রিকেটারকে হাতে ধরে শেখাতে। সে যেন আমার সাথে কাজ করে কিছু শিখতে পারে।
আর আমি কাউকে দেখে বলিনা যে এত বড় হবে বা কিছু পারবে না। আগে চেষ্টা করি
তার মধ্যে থেকে প্রতিভা বের করে আনতে।’
আলাপের এক পর্যায়ে উঠে আসে
তানভীরের আইপিএলে কাজ করার প্রস্তাবের কথা। তিনি বলেন, ‘আমাকে চেন্নাই এবং
কলকাতা দল থেকে অফার করা হয়েছিল কাজ করার জন্য। কিন্তু কোনো একটা কারণে
হয়নি। আশা করছি সামনে হবে। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে যদি সুযোগ আসে কাজ করার
সেটাও করতে চাই।’
